কম্পিউটার সফটওয়্যার কি?

কম্পিউটার সফটওয়্যার হলো কোনো কাজের কতকগুলো সুশৃঙ্খল নির্দেশ যার ভিত্তিতে হার্ডওয়্যার সক্রিয় হয়ে সংশ্লিষ্ট কাজটি সম্পন্ন করে থাকে। অর্থাৎ কোনো কাজের উপযোগী করে তা সম্পাদনের নির্দেশ দেওয়ার নামই হলো সফটওয়্যার। অন্যভাবে বলা যায়, সফটওয়্যার হলো কতকগুলো প্রোগ্রামের সমষ্টি যা হার্ডওয়্যারকে সচল করে ব্যবহারকারীর সমস্যা সমাধান করে থাকে। এক কথায় হার্ডওয়্যার কম্পিউটারের দেহ হলে সফটওয়্যারকে কম্পিউটারের প্রাণ বলা যেতে পারে।


কম্পিউটার সফটওয়্যারের উদাহরণ :
১. ওয়ার্ড প্রসেসিং
২. স্প্রেডশীট প্রোগ্রাম
৩. ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
৪. গ্রাফিক্স ও ডেস্কটপ পাবলিশিং
৫. ই-মেইল
৬. ওয়েব ব্রাউজ
৭. ভিস্তা
৮. এমএস পাওয়ার পয়েন্ট
৯. উইন্ডোজ ২০০৩
১০. উইন্ডোজ এক্সপি ইত্যাদি।
 
#সফটওয়্যার #উইন্ডোজ_এক্সপি  #গ্রাফিক্স

Computer কি? কম্পিউটারের কাজ, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা এবং ব্যবহার।


%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25AE%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25AA%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2589%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25B0
  Computer শব্দটির সাধারণ অর্থ হচ্ছে গণক যন্ত্র। ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে ইংরেজী Computer শব্দের উৎপত্তি। Compute শব্দটির অর্থ গণনা বা হিসাব নিকাশ করা। কম্পিউটারের সাহায্যে মূলতঃ যােগ, বিয়ােগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি কার্যাবলী সম্পাদন করা যায়। কিন্তু বর্তমান যুগে কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের সংঙ্গা অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে। কোন সীমিত সংঙ্গা দিয়ে আর কম্পিউটারকে গন্ডীবদ্ধ করা যায় না। কম্পিউটার সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব-নিকাশ করতে পারে। কম্পিউটারে কাজের গতি হিসাব করা হয় ন্যানোসেকেন্ডে। ন্যনোসেকেন্ড হচ্ছে এক সেকেন্ডের একশত কোটি ভাগের একভাগ সময় মাত্র। কম্পিউটারের ভিতরে অনেক বর্তনী থাকে। ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়। ইলেকট্রনিক সংকেতের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে কম্পিউটার ল্যাংগুয়েজ বা কম্পিউটারের ভাষা। কম্পিউটারের বোধগম্য এ ভাষার মাধ্যমে কম্পিউটারে যে নির্দেশ দেয়া হয় তারই ভিত্তিতে কম্পিউটার ফলাফল প্রদান করে। কম্পিউটারের এ নির্দেশাবলিকে বলা হয় প্রোগ্রাম। প্রোগ্রাম ছাড়া কম্পিউটার একটি জড় পদার্থ ভিন্ন আর কিছু নয়। উপযুক্ত প্রোগ্রামের ফলে কম্পিউটার জড় পদার্থ হতে গাণিতিক শক্তিসম্পন্ন বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিণত হতে পারে।

 কম্পিউটারের কাজ 
কম্পিউটারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিচে উল্লেখ করা হলাে
১. সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরি প্রােগ্রাম (Programs) কম্পিউটার গ্রহণ করে মেমােরিতে সংরক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশে কম্পিউটার প্রােগ্রাম নির্বাহ (Execute) করে।
২. কী-বাের্ড, মাউস, জয়স্টিক, ডিস্ক ইত্যাদির মাধ্যমে কমপিউটার ডেটা (Data) গ্রহণ করে।
৩. ডেটা প্রক্রিয়াকরণ (Process ) করে।
৪. মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে।

 কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য 
বিভিন্ন যন্ত্রের মতাে কম্পিউটারেরও নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। উল্লেখযােগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলাে।
১. দ্রুতগতি (High speed)
২. নির্ভুলতা (Correctness)
৩. সূক্ষ্মতা (Accuracy)
৪. বিশ্বাসযােগ্যতা (Reliability)
৫. ক্লান্তিহীনতা (Dilligence)
৬. স্মৃতিশক্তি (Memory)
৭. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation)
৮. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত (Logical Decision)
৯. বমুখিতা (Versatility)
১০. অসীম জীবনীশক্তি (Endless Life)

নিম্নে কম্পিউটারের উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্যগুলাের বিস্তারিত আলােচনা করা হলাে।
১. দ্রুতগতি (High speed)
বৈদ্যুতিক সিগন্যালের মাধ্যমে কাজ করে বিধায় কম্পিউটার খুব দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে। কম্পিউটার এক সেকেন্ডে কয়েক কোটি যােগ করতে পারে। কম্পিউটারে সময়ের একক হলাে ন্যানােসেকেন্ড, পিকোসেকেন্ড ইত্যাদি।

২. নির্ভুলতা (Correctness)
কম্পিউটার একটি মেশিন। মানুষের দেয়া সূত্র ও যুক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রদান করে। কম্পিউটার কখনও ভুল করে না। কম্পিউটারের নির্ভুলতা শতকরা ১০০ ভাগ।

৩. সূক্ষ্মতা (Accuracy)
কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি অনেক বেশি। তাই অনেক ঘর পর্যন্ত নির্ভুলভাবে গাণিতিক ক্রিয়াকলাপ করতে পারে। এ কারণে কম্পিউটারের সূক্ষ্মতা অনেক বেশি ধরে নেয়া যায়।

৪. বিশ্বাসযােগ্যতা (Reliability)
কম্পিউটার নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। কাজ করার জন্য কম্পিউটার মানুষের দেয়া নির্দেশ ব্যবহার করে। কম্পিউটার ভুল করে না কিন্তু মানুষ করে, এটা প্রমাণিত।


৫. ক্লান্তিহীনতা (Dilligence)
কম্পিউটার একটি যন্ত্র। আর এ যন্ত্রের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্লান্তিহীনতা। কম্পিউটার রাত দিন ক্লান্তিহীন, বিরক্তিহীন এবং বিশ্রামহীনভাবে কাজ করতে পারে।

৬. স্মৃতিশক্তি (Memory)
কম্পিউটারের নিজস্ব স্মৃতিশক্তি (Memory) আছে। কম্পিউটারের মেমােরিতে নির্দেশ (প্রােগ্রাম), প্রয়ােজনীয় ডেটা এবং প্রক্রিয়াজাত ফলাফল (ইনফরমেশন) সংরক্ষিত করে রাখা যায়।

৭. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation)
কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মানুষের পরিবর্তে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আরাে অনেক ক্ষেত্রে যেমন, কল-কারখানায়, বিস্ফোরক গবেষণায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

৮. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত (Logical Decision)
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবস্থা বিচার করে কী কাজ করতে হবে তার আগাম নির্দেশ দিয়ে রাখলে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কাজ কম্পিউটার নিজে নিজে করতে পারে।

৯. ব্যবহারের বহুমুখিতা (Versatility)
বহুমুখী কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা যায়। কম্পিউটার একটি প্রােগ্রামনির্ভর যন্ত্র। যখন যে প্রোগ্রাম কম্পিউটারে লােড করা থাকে সে প্রােগ্রাম অনুসরণ করে কম্পিউটার কাজ করতে পারে। একটি কম্পিউটারে যেমন হিসাব-নিকাশের প্রােগ্রাম ব্যবহার করে হিসাব-নিকাশ করা যায় আবার মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার ব্যবহার করে ছবি দেখা যায় বা গান শােনা যায়।

১০. অসীম জীবনসীমা (Endcess Life)
কম্পিউটার চালানাে হয় প্রােগ্রাম ব্যবহার করে। মানুষের জীবনের যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় আছে কিন্তু গােগ্রামের কোন নির্দিষ্ট জীবনসীমা নেই। মানুষের তৈরি প্রোগ্রাম বছরের পর বছর সমান যােগ্যতায় একই মানে কাজ করে যেতে পারে। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও প্রােগ্রামের কোন মানের কমতি হয় না।
কম্পিউটার দিয়ে কাজ করার সুবিধা 
কম্পিউটার দিয়ে কাজ করার অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। যথা-
১. কম্পিউটার খুব দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে।
২. নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়।
৩. মেমোরিতে অনেক তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যায় এবং দ্রুত কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
৪. স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে থাকে।
৫. যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৬. ডেটা প্রসেসিং এর মাধ্যমে ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে।
৭. একই কম্পিউটার বহু ধরনের কাজ করতে পারে।
৮. কল্পনাহীনভাবে টানা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে।

 বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার 
১. ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখালেখির কাজে টাইপরাইটারের বিকল্প হিসেবে অফিস আদালতে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
২. ব্যাংকিং, শেয়ার বাজার ও ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের হিসেব তৈরি ও সংরক্ষণের কাজে গতানুগতিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আজকাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৩. অফিসের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার কাজে আজকাল কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৪. শিল্প ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজেও কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫. যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়ি, জাহাজ, অ্যারোপ্লেন, ঘরবাড়ি, ব্রিজ ইত্যাদি ডিজাইন করার ক্ষেত্রে।
৬. বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজে।
৭. একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রে।
৮. শিক্ষাক্ষেত্রে।
৯. বিনোদনের ক্ষেত্রে যেমন টিভি দেখা, ভিডিও দেখা ও গান বাজানো ইত্যাদি।
১০. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনামুলক যে কোন কাজে।
১১. যোগাযোগ ব্যবস্থার টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সপোর্টের ডিরেকশন ও নির্ণয়ের কাজে।
১২. আধুনিক সামরিক বাহিনীতে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে।
১৩. আবহাওয়া পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের কাজে।
Tags

কম্পিউটার কি এবং বিভিন্ন অংশ




কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা তথ্য বা ডেটা প্রক্রিয়া,সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার
করার ক্ষমতা রাখে। কম্পিউটার হল এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা অতি দ্রুত নির্ভুলভাবে বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক ও যৌগিক সমাধান দেয়। 1812 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ডিফারেন্সিয়াল ইঞ্জিন এবং 1833 সালে এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন উদ্ভাবন করে কম্পিউটারের জনক হিসেবে পরিচিত হন। কম্পিউটার বিভিন্ন প্রজন্ম অতিক্রম করে বিশাল আকৃতির কম্পিউটার থেকে ক্ষুদ্র  পামটপ কম্পিউটারে পরিবর্তন ঘটে। আমাদের বর্তমান দিনের কম্পিউটার কে মাইক্রোকম্পিউটার বলে অভিহিত করা হয়। মাইক্রো কম্পিউটার এর চারটি ভাগ ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক ও পাম্প।



কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ (পার্ট অফ কম্পিউটার)


কম্পিউটার সাধারণত তিন ধরনের অংশ দ্বারা গঠিত। ...

1) ইনপুট ইউনিট 2) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট 3) আউটপুট ইউনিট।


ইনপুট এর মাধ্যমে ডেটা বা ডাটা কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হয়, তারপর ওই   ডাটা মূল কার্যকারী
অংশের মাধ্যমে বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট এর মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়ে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পর
আউটপুট এর মাধ্যমে দেখা যায়। 
1) ইনপুট ইউনিট : যে অংশগুলির মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে সেই অংশগুলোক
বলে ইনপুট ইউনিট। মাউস, কিবোর্ড, ক্যামেরা ইত্যাদি ইনপুট ডিভাইস উদাহরণ।

3) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ: সমস্ত কম্পিউটার সিস্টেমের হার্ট বা প্রাণ স্বরূপ হল সি পি ইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট। সাধারণত
সিপিইউ i) অ্যারিথমেটিক এবং লজিক্যাল ইউনিট ii) মেমরি ইউনিট iii)  কন্ট্রোল ইউনিট এই তিন ভাগে
বিভক্ত করা হয়।


i) অ্যারিথমেটিক এবং লজিক্যাল ইউনিট : যেকোনো ধরনের পার্টি গণিত সমীকরণ বা বিভিন্ন যৌগিক ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অ্যারিথমেটিক এবং
লজিক্যাল ইউনিট দায়বদ্ধ থাকে।


ii) মেমরি ইউনিট:
মেমরি ইউনিট এ তথ্য ও প্রোগ্রাম ইত্যাদি সঞ্চয় করে রাখা হয়। মেমরি ইউনিট আবার দু'ভাগে বিভক্ত
a) হচ্ছে প্রাইমারি মেমোরি ও b) সেকেন্ডারি মেমোরি
a ) প্রাইমারি মেমোরি : কম্পিউটার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম গুলো মেমোরিতে যে অংশের মধ্যে সঞ্চিত থাকে তাকে বলা হয় প্রাইমারি মেমোরি। সাধারণত প্রাইমারি মেমোরি রাম (RAM ) এবং রোম (ROM) দুইভাগে বিভক্ত
RAM (Random Access Memory) : বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত তথ্যাদি এবং কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ব্যবহৃত তথ্য এই মেমোরিতে  সঞ্চিত থাকে। এই মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি পড়া ও লেখা উভয়ই সম্ভব। RAM মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি উদ্বায়ী অর্থাৎ পাওয়ার সুইচ বন্ধ করা মাত্র এই মেমোরি তে সঞ্চিত তথ্য মুছে যায় বা ডিলেট হয়ে যায়, আর সেভ থাকে না।


ROM (Read Only Memory) : কম্পিউটার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি স্থায়ী প্রোগ্রাম গুলি এই
মেমোরিতে সঞ্চিত থাকে। সাধারণত এই মেমোরিতে কেবল পড়া বা দেখা সম্ভব। এই মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি অনউদ্বায়ী। অর্থাৎ পাওয়ার সুইচ বন্ধ করা বা না করা সঙ্গে এই মেমোরিতে সঞ্চিত তথ্যাদি মুছে
যায় না।

b ) সেকেন্ডারি মেমোরি : এই মেমোরিতে বিপুল পরিমাণে তথ্যাদি সঞ্চিত করে রাখা যায়। এই মেমোরিতে প্রধানত স্থায়ী এবং ইচ্ছা
অনুযায়ী সঞ্চিত তথ্যাদি পরিবর্তন করা সম্ভব সেকেন্ডারি মেমোরি মধ্যে হার্ডডিক্স সিডি ডিভিডি ইত্যাদি
উল্লেখযোগ্য।


মেমোরি সঞ্চয় ক্ষমতা     Bit,
Byte =1024 Bit
Kilobyte (KB) = 1024 Byte
Megabyte(MB) =1024 KB
Gigabyte (GB) =1024 MB
Terabyte(TB) = 1024 GB


iii)  কন্ট্রোল ইউনিট :  এর সাহায্যে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বিভিন্ন ইউনিট এর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়।


সি পি ইউ বা সিস্টেম ইউনিট এর ভিতর সাধারণত যে অংশগুলি থাকে সেগুলি হল..

1)  Motherboard

i) Processor
ii) Math co-processor
iii) RAM (Random Access Memory)
iv) ROM (read only memory)
v) DIP (dual in-line package) switch (PC/XT only)
vi) Rechargeable battery (PC/AT and PS/2)
vii) Expansion slot or I/O slot
viii) Keyboard connector
ix) PS/2 Mouse connector
x) Parallel port
xi) Serial port
Xii) USB port
Xiii) Power connector

2) Hard disk controller

3) CD ROM driver controller

4)Display adapter
i) Monochrome graphics adapter(MGA)
ii) Colour graphics adapter (CGA)
iii) Enhanced graphics adapter (EGD)
iv)Video graphics adapter (VGA)
v) Super video graphic adapter (SVGA)

5) Power supply unit

6)   Trape driver controller

7)  Multi I/O card

8) Storage  devices ( HDD, CD-Rom/ DVD Drive )

3) আউটপুট ইউনিট: কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পাদনের পর যে 
অংশগুলি সহায়তায় কম্পিউটার সাধারণের বোধগম্য ভাষায় তা দৃশ্যমান করে তাকে বলে নির্গমন অংশ বা 
আউটপুট ডিভাইস।মনিটর বা ভিজুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট, প্রিন্টার প্রজেক্টর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য 
আউটপুট ডিভাইস। আবার  মিউজিক শোনার জন্য সাউন্ড কার্ড হলো আরেকটি উল্লেখযোগ্য আউটপুট ডিভাইস।

কবি-মাতৃভাষা



নিজাগারে ছিল মোর অমূল্য রতন
অগণ্য; তা সবে আমি অবহেলা করি,
অর্থলোভে দেশে দেশে করিনু ভ্রমণ,
বন্দরে বন্দরে যথা বাণিজ্যের তরী।
কাটাইনু কত কাল সুখ পরিহরি,
এই ব্রতে, যথা তপোবনে তপোধন,
অশন, শয়ন ত্যজে, ইষ্টদেবে স্মরি,
তাঁহার সেবায় সদা সঁপি কায় মন।
বঙ্গকূল-লক্ষ্মী মোরে নিশার স্বপনে
কহিলা – “হে বৎস, দেখি তোমার ভকতি,
সুপ্রসন্ন তব প্রতি দেবী সরস্বতী।
নিজ গৃহে ধন তব, তবে কি কারণে
ভিখারী তুমি হে আজি, কহ ধন-পতি?
কেন নিরানন্দ তুমি আনন্দ সদনে?
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত- সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

আত্মবিলাপ

আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিনু,হায়,
তাই ভাবী মনে?
জীবন-প্রবাহ বহি কাল-সিন্ধু পানে যায়,
ফিরাব কেমনে?
দিন দিন আয়ুহীন হীনবল দিন দিন ,—
তবু এ আশার নেশা ছুটিল না? এ কি দায়!
রে প্রমত্ত মন মম! কবে পোহাইবে রাতি?
জাগিবি রে কবে?
জীবন-উদ্যানে তোর যৌবন-কুসুম-ভাতি
কত দিন রবে?
নীর বিন্ধু, দূর্বাদলে,নিত্য কিরে ঝলঝলে?
কে না জানে অম্বুবিম্ব অম্বুমুখে সদ্যঃপাতি?
নিশার স্বপন-সুখে সুখী যে কী সুখ তার?
জাগে সে কাঁদিতে!
ক্ষণপ্রভা প্রভা -দানে বাড়ায় মাত্ত আঁধার
পথিকে ধাঁদিতে!
মরীচিকা মরুদেশে,নাশে প্রাণ তৃষাক্লেশে—
এ তিনের ছল সম ছল রে এ কু-আশার।
প্রেমের নিগড় গড়ি পরিলি চরণে সাদে
কী ফল লভিলি?
জ্বলন্ত-পাবক-শিখা-লোভে তুই কাল ফাঁদে
উড়িয়া পড়িলি
পতঙ্গ যে রঙ্গে ধায়,ধাইলি,অবোধ,হায়
না দেখলি না শুনিলি,এবে রে পরাণ কাঁদে
বাকি কি রাখিলি তুই বৃথা অর্থ-অন্বেষণে,
সে সাধ সাধিতে?
ক্ষত মাত্ত হাত তোর মৃণাল-কণ্টকগণে
কমল তুলিতে
নারিলি হরিতে মণি, দঃশিল কেবল ফণী
এ বিষম বিষজ্বালা ভুলিবি, মন,কেমনে!
যশোলাভ লোভে আয়ু কত যে ব্যয়িলি হায়,
কব তা কাহারে?
সুগন্ধ কুসুম-গন্ধে অন্ধ কীট যথা ধায়,
কাটিতে তাহারে?
মাৎসর্য-বিষদশন, কামড়ে রে অনুক্ষণ!
এই কি লভিলি লাভ,অনাহারে,অনিদ্রায়?
মুকুতা-ফলের লোভে,ডুবে রে অতল জলে
যতনে ধীবর,
শতমুক্তাধিক আয়ু কালসিন্ধু জলতলে
ফেলিস,পামড়!
ফিরি দিবি হারাধন,কে তোরে,অবোধ মন,
হায় রে,ভুলিবি কত আশার কুহক-ছলে!
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

কপোতাক্ষ নদ



সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে
দুগ্ধস্রোতরূপি তুমি মাতৃভূমি স্তনে।
আর কি হে হবে দেখা যত দিন যাবে
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি রূপ কর তুমি এ মিনতি গাবে
বঙ্গজ জনের কানে সখে-সখারিতে।
নাম তার এ প্রবাসে মজি প্রেমভাবে
লইছে যে নাম তব বঙ্গের সঙ্গীতে।
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

ইতালি



ইতালি, বিখ্যাত দেশ, কাব্যের কানন,
বহুবিধ পিক যথা গায় মধুস্বরে,
সঙ্গীত‐সুধার রস করি বরিষণ,
বাসন্ত আমোদে আমোদ মন পূরি নিরন্তরে;—
সে দেশে জনম পূর্বে করিলা গ্রহণ
ফ্রাঞ্চিস্কো পেতরাকা কবি; বাক্‌‍দেবীর বরে
বড়ই যশস্বী সাধু, কবি‐কুল‐ধন,
রসনা অমৃতে সিক্ত, স্বর্ণ বীণা করে।
কাব্যের খনিতে পেয়ে এই ক্ষুদ্র মণি,
স্বমন্দিরে প্রদানিলা বাণীর চরণে
কবীন্দ্র: প্রসন্নভাবে গ্রহিলা জননী
(মনোনীত বর দিয়া) এ উপকরণে।
ভারতে ভারতী‐পদ উপযুক্ত গণি,
উপহাররূপে আজি অরপি রতনে॥
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

বঙ্গভাষা



হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি!
অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে, --
"ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যারে ফিরি ঘরে।"
পালিলাম আজ্ঞা সুখে' পাইলাম কালে
মাতৃভাষা-রূপ খনি, পূর্ণ মণিজালে‍‍‍‍‍‍‍‍‍‌‌‌।।
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

উপক্রম

যথাবিধি বন্দি কবি, আনন্দে আসরে, 
কহে, জোড় করি কর, গৌড় সুভাজনে;— 
সেই আমি, ডুবি পূর্বে ভারত‐সাগরে,
তুলিল যে তিলোত্তমা‐মুকুতা যৌবনে;—
কবি‐গুরু বাল্মীকির প্রসাদে তৎপরে,
গম্ভীরে বাজায়ে বীণা, গাইল, কেমনে,
নাশিলা সুমিত্রা‐পুত্র, লঙ্কার সমরে,
দেব‐দৈত্য‐নরাতঙ্ক— রক্ষেন্দ্র‐নন্দনে;
কল্পনা দূতীর সাথে ভ্রমি ব্রজ‐ধামে
শুনিল যে গোপিনীর হাহাকার ধ্বনি,
(বিরহে বিহ্বলা বালা হারা হয়ে শ্যামে;)—
বিরহ‐লেখন পরে লিখিল লেখনী
যার, বীর জায়া‐পক্ষে বীর পতি‐গ্রামে,
সেই আমি, শুন, যত গৌড়‐চূড়ামণি!—

ইতালি, বিখ্যাত দেশ, কাব্যের কানন,
বহুবিধ পিক যথা গায় মধুস্বরে,
সঙ্গীত-সুধার রস করি বরিষণ,
বাসন্ত আমোদে আমোদ মন পূরি নিরন্তরে;—
সে দেশে জনম পূর্বে করিলা গ্রহণ
ফ্রাঞ্চিস্কো পেতরাকা কবি; বাক্দেবীর বরে
বড়ই যশস্বী সাধু, কবি-কুল-ধন,
রসনা অমৃতে সিক্ত, স্বর্ণ বীণা করে।
কাব্যের খনিতে পেয়ে এই ক্ষুদ্র মণি,
স্বমন্দিরে প্রদানিলা বাণীর চরণে
কবীন্দ্র: প্রসন্নভাবে গ্রহিলা জননী
(মনোনীত বর দিয়া) এ উপকরণে।
ভারতে ভারতী-পদ উপযুক্ত গণি,
উপহাররূপে আজি অরপি রতনে॥
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর



বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে।
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু !– উজ্জল জগতে
হেমাদ্রির হেম-কান্তি অম্লান কিরণে।
কিন্তু ভাগ্য-বলে পেয়ে সে মহা পর্বতে,
যে জন আশ্রয় লয় সুবর্ণ চরণে,
সেই জানে কত গুণ ধরে কত মতে
গিরীশ। কি সেবা তার সে সুখ সদনে !
দানে বারি নদীরূপ বিমলা কিঙ্করী।
যোগায় অমৃত ফল পরম আদরে
দীর্ঘ-শিরঃ তরু-দল, দাসরূপ ধরি।
পরিমলে ফুল-কুল দশ দিশ ভরে,
দিবসে শীতল শ্বাসী ছায়া, বনেশ্বরী,
নিশায় সুশান্ত নিদ্রা, ক্লান্তি দূর করে।
 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

জীবনকে আনন্দময় করে তুলুন

জীবন নিয়ে নানা জনের নানা মত। যার কাছে জীবন যেমন তিনি সেরকমভাবে ব্যাখ্যা করেন। কবি-সাহিত্যিকরা বলেন, জীবন এক বহতা নদী। নদী যেমন আপন গতিতে চলে; জীবনকেও নদীর মতোই চলতে দেওয়া উচিত। 
কেউ কেউ বলেন, জীবন বড় জটিল অংক। কিছুতেই একে মেলানো যায় না। নানা ঝক্কি-ঝামেলায় জীবনের নাস্তানাবুদ অবস্থা। কারো কারো কাছে জীবন আনন্দময়। যারা বলছেন আনন্দময়, তারা কি অনায়াসে এমন জীবন পেয়েছেন? তাদের কি কিছুই করতে হয়নি! নিশ্চয়ই তারা জীবনকে আনন্দময় করে তুলেছেন।
আসলে জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে হয়। সে দায়িত্ব কিন্তু নিজেরই। আপনার জীবন আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে। আপনি জীবনকে আনন্দময় করে তুলবেন, নাকি জটিল করবেন! সেটা আগে ভেবে দেখুন।
আমরা ইচ্ছা করলেই কিন্তু জীবনটাকে সহজ করে তুলতে পারি। নিজে একটু চেষ্টা করলেই অনেক জটিলতা এড়াতে পারি। জীবনে চলার পথে নানা বাধাবিপত্তি আসবে। নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হবে। সেগুলোকে সহজভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, খুব ছোট কাজ কিংবা কোনো ছোট সমস্যাকেও অনেক জটিল করে তোলেন। সমস্যা যত না বড়, তার চেয়ে টেনশনের মাত্রা অনেক বেশি। এতে কী হয়! জটিলতা আরো বাড়ে। কিন্তু এর উল্টোটা হওয়া উচিত। বড় সমস্যাকে ছোট করে দেখা। বলা উচিত, এটা কোনো সমস্যাই না। তাতে টেনশন থাকবে না। টেনশন না থাকলে কাজটাও অতি সহজ হয়ে যাবে। টেনশন যত বাড়বে কাজটাও তত জটিল হবে।
অনেকে আছেন, সব সমস্যা মাথায় নিয়ে ঘোরেন। এমন একটা ভাব যেন তাকেই সব করতে হবে। কেন সব সমস্যা মাথায় নিতে হবে? তাহলে তো কোনো কাজই হবে না। ছোটখাটো সমস্যাগুলো ছেঁটে ফেলতে হবে। মাথায় নেওয়া যাবে না। বড় কোনো সমস্যা সামনে এলে সঙ্গে সঙ্গে তা সমাধান করতে হবে। জটিলতা পাকানো সহজ কাজ, সমাধান করা কঠিন। সেটা ভেবে অগ্রসর হলে কোনো সমস্যাই সমস্যা না।
অনেকে আছেন মানসিকভাবেই জটিল। সবকিছুকেই তিনি জটিলভাবে দেখেন। সহজ জিনিসকেও জটিলভাবে চিন্তা করেন। তারা কখনোই জীবনকে সহজভাবে এগিয়ে নিতে পারেন না। জীবনকে সহজভাবে এগিয়ে নিতে না পারলে জীবন সত্যিই জটিল হয়ে ওঠে। এজন্য আগে জটিল মানসিকতাকে সহজ করতে হবে। সহজভাবে চিন্তা করতে হবে।
আমরা যখন একটি গ্লাসে অর্ধেক পানি দেখি তখন কেউ বলেন, অর্ধেক পূর্ণ। আবার কেউ বলেন অর্ধেক খালি। আমরা যদি পজেটিভ মানসিকতার হই তাহলে বলব, অর্ধেক পূর্ণ। আর নেগেটিভ মানসিকতার হলে বলব, অর্ধেক খালি। উভয়েই কিন্তু সঠিক তথ্যই দিচ্ছেন। তবে এখানে মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা সবাই যদি ইতিবাচক ভাবনা ভাবি তাহলে নেতিবাচক ভাবনাগুলি এমনিতেই দূর হয়ে যাবে। থাকবে না। জটিলতাও কমে যাবে।
অনেক চাকরিজীবী আছেন, যারা অফিসের সমস্যা বাসায় এবং বাসার কিংবা পারিবারিক সমস্যা অফিসে নিয়ে আসেন। ফলে কোনোটাই তারা ঠিকভাবে করতে পারেন না। অথবা একটি করেন, অন্যটি ফাঁকি দেন। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, কোন কাজটাকে আপনি ফাঁকি দিচ্ছেন?
আপনার কিন্তু দুটো কাজই ঠিকভাবে করার কথা! আপনি তখনই দুটি কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে পারবেন যখন অফিসের কাজ অফিসে এবং বাসার কাজ বাসায় রেখে আসবেন। কারণ, দুটি বোঝা আপনি একসঙ্গে বহন করতে পারবেন না। বিষয়টি মনে রাখলে আপনার সব কূল রক্ষা হবে।
আর জীবনকে আনন্দময় করতে হলে মাথার সব চাপ, সব ধরনের টেনশন ঝেড়ে ফেলতে হবে। আগামী দিনের কাজ নিয়ে আপনি যদি আজই হা-হুতাশ করতে থাকেন তাহলে আপনার জীবন বিষাদময় হতে বাধ্য। কাজেই বর্তমান নিয়ে ভাবুন। জীবনটাকে আনন্দময় করে তুলুন। ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করে মাথা নষ্ট করার কোনো দরকার নেই। 
লেখক : মোস্তফা কামাল , সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

আগে নিজেকে বদলাও

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে অনেক কিছুই বদলাতে হয়। যুগের হাওয়ায় একটা অনাধুনিক মানুষও আধুনিক হয়ে ওঠে। উঠতে হয়। তা না হলে ছিটতে পড়তে হয়। পরিবেশ পরিস্থিতিও মানুষকে তৈরি করে। আবার কিছু জিনিস আছে সেগুলো মানুষ দেখে দেখে কিংবা ঠেকে ঠেকে শেখে। শিখে নিতে হয়।
কিছু বিষয় আছে নিজের পরিবার থেকে শিখতে হয়। আবার কিছু আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিখে নিতে হয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের ব্যবহার, সভ্যতা, ভব্যতা মা-বাবার কাছ থেকে মানুষ শেখে। আবার বিদ্যা-শিক্ষা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে আরো কিছু আচার-ব্যবহার মানুষ শেখে। এভাবেই মানুষের জীবন হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ ভালো রেজাল্ট করলে আমরা খুব বাহবা দেই। অনেকে খুব ঈর্ষা করি। ও এতো ভালো রেজাল্ট করল! আমি পারলাম না! ও যে কষ্টটা করল তা আমি দেখলাম না। ও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে লেখাপড়া করে। ও প্রতিদিন রাতে গভীর মনোযোগ দিয়ে ক্লাসের পড়া শেষ করে। ও স্কুল ফাঁকি দেয় না। হোমওয়ার্ক ফাঁকি দেয় না। ও নিয়মিত খেলাধুলা করে। ও সময় মতো ঘুমাতে যায়। অথচ আমি ওর মতো নিয়মকানুন মানি না। আমি আমার খেয়ালখুশি মতো চলি। তাহলে কি করে আমি ওর মতো ভালো করব?
চাকরি ক্ষেত্রেও অনেকে আছেন তর তর করে ওপরে উঠে যাচ্ছেন। আর কেউ একই জায়গায় পড়ে আছেন। কেন এ রকম হয়? যিনি নিয়মিত অফিস করেন, ঠিকঠাক মতো নিজের কাজটা করেন। কাজে কোনো ফাঁকি দেন না। কোনো রকম অসততা করেন না। কাজটাকে নিজের মনে করেন। তিনি যদি তর তর করে ওপরে উঠে যায় তাহলে কারো কিছু বলার থাকে? যিনি নিয়মিত অফিসের কাজ ফাঁকি দেন। ঠিকমতো অফিসে যান না। অসৎ কাজে ব্যস্ত থাকেন। কাজটাকে নিজের মনে করেন না। তিনি যদি তর তর করে ওপরে উঠেন তাহলে আমরা সবাই অবাক হবো না? নিশ্চয়ই অবাক হবো।
তাহলে কি করবে হবে? নিজেকে বদলাতে হবে। নিজের পুরনো ধ্যান-ধারণাগুলো পাল্টাতে হবে। নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আমি কেন পিছিয়ে, কিংবা একই জায়গায় পড়ে আছি? কেন এগোতে পারছি না, সে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
অনেকে বলেন, মানুষের অভ্যাস নাকি বদলানো যায় না। কেন যাবে না? যদি খারাপ কোনো অভ্যাস কারো থেকে থাকে; যদি তা জীবনের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাহলে তা অবশ্যই বদলাতে হবে। যেমন: অনেকের আচার আচরণ ভালো নয়। অন্যকে হার্ট করে কথা বলে। কথায় কথায় অন্যকে আঘাত করে। এ ধরনের মতো কারো প্রিয় হয় না। ফলে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। এ ধরনের অভ্যাস অবশ্যই বদলাতে হবে।
অনেকের অভ্যাস দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা। রাত জাগা। আবার কারো ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাসও আছে। এসব অভ্যাস নাকি বদলানো যায় না। কেন যাবে না? এসব তো এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা। এগুলো অবশ্যই বলদাতে হবে। সবক্ষেত্রেই নিয়মানুবর্তিতা দরকার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষের নেতিবাচক কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জীবন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করে। সে ক্ষেত্রে সেই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো বাদ দিতেই হবে। অন্যথায় সামনে এগোনো যাবে না। নিজের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে নিজেকে বদলাতে হবে আগে।
লেখক :মোস্তফা কামাল , সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

চেষ্টা করলে কী না হয়!

চেষ্টায় যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। চেষ্টা করলে সফল হওয়া যায় না এ কথা বিশ্বাস করি না। চেষ্টা করে সফল হননি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। চেষ্টা করলে একদিক দিয়ে না হোক, আরেক দিক দিয়ে সাফল্য আসে। কোনো প্রচেষ্টাই বিফলে যায় না। এটা ধ্রুব সত্য বলে মনে করি।
আপনার কর্মস্থলে আপনি হয়তো দেখছেন, রাতদিন পরিশ্রম করেও পদোন্নতি হচ্ছে না। কিংবা বেতন বাড়ছে না। আপনি খেটে মরছেন আর আপনার একজন কলিগ গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছে। যিনি হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছেন তিনিই অতি মূল্যায়িত হচ্ছে। আপনি এসব দেখে মন খারাপ করছেন। আপনি মনে মনে ভাবছেন, আপনার কাজ কেউ দেখছে না। কেউ আপনাকে মূল্যায়ন করছে না। কী লাভ এতো এতো কাজ করে! সারাক্ষণ গাধার মতো খাটছি, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
কিছু হচ্ছে না বলে কি আপনি কাজকর্ম বন্ধ করে বসে থাকবেন! কাজে ফাঁকি দেবেন? নাকি আরো বেশি বেশি চেষ্টা করে যাবেন? আপনিই চিন্তাভাবনা করে বলেন তো!
অবশ্যই আপনি কাজের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবেন। আপনি আরো বেশি আন্তরিক হবেন। দেখবেন, আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে মূল্যায়ন না করলেও অন্য প্রতিসমান থেকে এমন অফার পাবেন যা আপনি হয়তো কল্পনাও করেননি। এটাই প্রকৃতির বিচার। প্রকৃতির জাজমেন্ট কিন্তু ভয়ংকর! প্রতিটি মানুষকেই প্রকৃতির বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
যে মানুষটি কাজে ফাঁকি দিচ্ছে সে কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকেই ফাঁকি দিচ্ছে। একটা সময় কাজ তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। চেষ্টা করেও তখন সে আর কাজকে ধরতে পারে না। কাজ তার কাছে আর ধরা দেয় না। আস্তে আস্তে সে অকাজের লোকে পরিণত হয়। তখন চেষ্টা করেও সে আর নিজেকে কাজের মধ্যে সম্পৃক্ত করতে পারে না। সে তখন ভিন্ন পথ বেছে নেয়। সেই ভিন্ন পথটা কি? সেই পথটি হচ্ছে ফাঁকিবাজ, চাপাবাজ, আর তোষামদকারীর পথ। লোকটির তখন মেরুদণ্ড বলে কিছু থাকে না।
বস হয়তো তাঁকে বকছেন, গালমন্দ করছেন। আর তিনি বসের সামনে হাত কচলাচ্ছেন। বসের বকা শেষ হলে আবার তিনি গা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন। এমন ভাব করেন যেন তার কিছুই হয়নি। কিছুক্ষণ বাদেই তিনি স্বরূপে আভির্ভূত হন। তিনি বসকে সন্তুষ্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কোনো কথা বললে বস খুশি হবেন ইনিয়ে বিনিয়ে সেই কথা বলতে থাকেন। আসলে তাদের একটাই কাজ, বসকে খুশি রাখা।
কাজের লোকরা কিন্তু এটা কখনোই করেন না। তারা কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। কাজটাকেই তারা বড় করে দেখেন। আর সেই কাজই তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কখনো কখনো তিনি লিফটের গতিতে এগিয়ে যান।
একটি কথা মনে রাখতে হবে, বসকে খুশি রাখলে হয়তো সাময়িক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু তেলবাজি কিংবা তোষামোদি করে খুব বেশি দূর যাওয়া যায় না। বরং তার নিজের জায়গাটাও ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। একটা সময় তাকে চাকরি হারাতে হয়। আর কাজ মানুষকে তার স্বপ্নের সমান বড় করে। কোনো কোনো কাজের মানুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটে যে, তার প্রাপ্তি কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। 
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়েন। নতুন করে শুরু করতে চান না। শুরু করতে পারেন না। অথচ আলিবাবার কর্ণধার জ্যাক মা’র কথা চিন্তা করুন। তিনি লেখাপড়ায় ব্যর্থ, চাকরি করতে গিয়ে ব্যর্থ। ব্যবসা করতে গিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। যে জায়গায় ব্যর্থ হয়েছেন সেটাকে তিনি অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরে নিয়েছেন। আবার নতুন করে শুরু করেছেন। অনলাইন শপিং স্টোর আলিবাবা করেই তিনি বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন হয়ে ওঠেন। 
লেখক : মোস্তফা কামাল , সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।

হতাশায় যেন পেয়ে না বসে

মোস্তফা কামাল 


তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।
হতাশা একটা মানসিক রোগ। এটা যেকোনো প্রাণঘাতী রোগের মতোই ভয়াবহ। হতাশা যাকে গ্রাস করে তাকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। ভাইরাসের মতো এটি একজনের কাছ থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাবে আশপাশের লোকজনও আক্রান্ত হতে পারে।
আমরা অনেক সময় দেখি, পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো না করায় ছেলে-মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কেন তারা আত্মহত্যা করে? কারো ওপর রাগ করে? নিশ্চয়ই নয়। পাস না করার লজ্জা, হতাশা থেকে আত্মহত্যা করে। অনেকে চাকরি না পেলে হতাশায় ভেঙে পড়ে। অনেক সময় আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। আবার অনেকে পারিবারিক চাপ সহ্য করতে না পেরেও আত্মহত্যা করে। হতাশা এমনভাবে তাদের পেয়ে বসে যে, তারা আত্মহত্যা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খুঁজে পায় না।
আত্মহত্যাই কি এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান? নিশ্চয়ই তা নয়। তাহলে কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে? কেন নিজেকে শেষ করে দিতে হবে? কেন হতাশা গ্রাস করবে?
সংকট যত কঠিনই হোক, তার সমাধান অবশ্যই আছে। সংকটে পড়লেই হতাশায় কাতর হতে হবে কেন?  সংকট মোকাবেলার জন্য পথ খুঁজতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। সংকটে পড়লে মাথা গরম না করে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। কী করে সমাধান বের করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।
একটি কথা মনে রাখতে হবে, হতাশা জিইয়ে রাখলে হতাশা বাড়ে। হতাশায় পেয়ে বসার আগেই ঝেড়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে মা-বাবা, ভাইবোন কিংবা নিকটাত্মীয়দের কারো সঙ্গে হতাশার বিষয়টি শেয়ার করা যায়। যে সমস্যায় আপনি ভারাক্রান্ত তা সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া যেতে পারে। আবার মনের দুঃখ-কষ্ট শেয়ার করলেও অনেক সময় হালকা হওয়া যায়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই রেজাল্ট খারাপ হলেই হতাশায় ভেঙে পড়ে। তখন তারা লেখাপড়ায় আরো বেশি অনমনোযোগী হয়। এতে ফল আরো খারাপ হয়। যেকোনো পরীক্ষায় ভালো-মন্দ থাকবে। সব সময়ই যে একরকম ভালো হবে তা নয়। কখনো কখনো খারাপ হতেই পারে। সেজন্য ভেঙে পড়লে চলবে না। রেজাল্ট খারাপ হলে লেখাপড়ায় মনোযোগ আরো বাড়াতে হবে। লেখাপড়ার প্রতি আরো বেশি যত্নবান হতে হবে।
অনেকে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির জন্য ঘুরছেন। পাচ্ছেন না। তারা হতাশায় ভোগেন। আমরা তো সবাই জানি, এখন প্রতিযোগিতার বাজার। সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রতিযোগিতা। শুধু পাঠ্যবই পড়ে লেখাপড়া শেষ করলেই হবে না।
বিজ্ঞজনরা বলেন না পুঁথিগত বিদ্যা আর পরহস্ত ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন। এখনকার চাকরির বাজার অনেক কঠিন। ছাত্রজীবন থেকেই চাকরির বাজারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। সৃজনশীল বই পড়তে হবে। বিশ্ব সম্পর্কে ভালো ধারনা না থাকলে প্রতিযোগিতায় টেকা যাবে না।
অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান কষ্ট করে লেখাপড়া করে। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করে যে চাকরি পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হয়তো তার পরিবারের সদস্যরা বড় ছেলে বা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। চাকরি হলে তাদের পরিবারে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসবে। অথচ চাকরি পাচ্ছে না। তারা বেশি হতাশায় ভোগে। হতাশ না হয়ে মনোবল শক্ত করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হতাশায় পেয়ে বসলে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। কাজেই যে কোনো পরিস্থিতিতে আশা জাগিয়ে রাখতে হবে।
লেখক :মোস্তফা কামাল  , সাহিত্যিক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।

মানবতা পরম ধর্ম



শুরুতেই একটি পুরনো গল্প বলছি। তখন ১৯৪৬ সাল। ভারতবর্ষজুড়ে দাঙ্গার ঘটনা ঘটছে। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। মারামারি কাটাকাটি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করে কিছু করতে পারছে না।
ভারতের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গার ঘটনার বিস্তার ঘটেছে বাংলাদেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় দাঙ্গার ঘটনা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য নানামুখি তৎপরতা চালাচ্ছেন। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
পুরনো ঢাকায় কয়েকজন মুসল্লি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে স্বামী-স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে দৌড় শুরু করেছে। এক পর্যায়ে তারা এক মুসলমান পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির কর্তা দরজা বন্ধ করে দেন। বাড়িতে যারা ঢুকেছে তাদের দিকে তাকিয়ে দেখেন, তারা হিন্দু পরিবার। ভয়ে থর থর করে কাঁপছে।
বাড়ির কর্তা ভীতসন্ত্রস্ত পরিবারটিকে হাতের ইশারায় আশ্বস্ত করলেন। কিন্তু হিন্দু পরিবারটিকে তাড়া করতে করতে আসা মুসল্লিরা বাড়ির সামনে এসে হৈচৈ শুরু করল। চিৎকার করে বলল, ওদেরকে বের করে দাও। ওদেরকে আমরা চিরতরে শেষ করে দেবো।
দরজা খুলে বাড়ির কর্তা সটান দাঁড়িয়ে বললেন, ওরা আমার মেহমান। আমার জীবন থাকতে ওদের কোনো ক্ষতি হতে দেবো না।
মুসল্লিরা কিছুক্ষণ হৈচৈ করে বলল, এসব আপনি কি বলেন? ওরা হিন্দু; ওরা আপনার মেহমান হয় কি করে?
ওরা হিন্দু না মুসলমান সেটা দেখার বিষয় নয়। ওরা মানুষ। আমার কাছে ধর্মের চেয়ে মানবতা বড়।
মুসল্লিরা হৈচৈ করে চলে গেলো। বাড়ির কর্তাও হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।
একই রকম আরেকটি ঘটনা তখন কলকাতায় ঘটেছিল। সেখানে অসংখ্য মুসলিম পরিবার হামলার শিকার হয়। হামলার সময় একটি মুসলিম পরিবার জীবন রক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই পরিবারে ছিল দুই যুবতী কন্যা। চারদিক থেকে যখন হামলা হচ্ছিল তখন তারা বেদিশা হয়ে পড়েছিল। কোথাও লুকাবার জায়গা পাচ্ছিল না। এ রকম এক সংকটময় মুহূর্তে এক হিন্দু ভদ্রলোক পরিবারটিকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলেন। তিনি তার বাড়িতে আশ্রয় দিলেন।
আশ্রয় দেয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। হিন্দুরা এসে ভদ্রলোকের বাড়ি ঘেরাও করল। মুসলিম পরিবারটিকে ছিনিয়ে নিতে চাইল। কিন্তু ভদ্রলোক অনড়। তিনি জীবন দিয়ে হলেও মুসলিম পরিবারটিকে রক্ষা করবেন বলে জানিয়ে দিলেন।
হিন্দুরা ক্ষিপ্ত হয়ে বলল, একটা মুসলিম পরিবারকে কেন্দ্র তুমি আশ্রয় দিয়েছ? তাদেরকে আমাদের হাতে ছেড়ে দাও। আমরা ওদের প্রাণ বিনাশ করব।
ভদ্রলোক বললেন, আমার কাছে হিন্দু মুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই মানুষ। আমার কাছে বড় হচ্ছে মানবতা।
হিন্দুরা হৈচৈ করে বিদায় নিল। এভাবেই রক্ষা পেল একটি পরিবার।
এবার চীন সফর প্রসঙ্গে বলি। বেশ কিছু দিন আগে চীন সরকারের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম ৫০ শতাংশ মানুষই ধর্ম মানে না। তারা মানবতায় বিশ্বাসী। তারা মনে করে, মানব ধর্মের চেয়ে পরম ধর্ম আর নেই।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই ধর্মে বিশ্বাসী। কিন্তু কত শতাংশ মানুষ মানবিক? ইসলাম শান্তির ধর্ম, সম্প্রীতির ধর্ম, মানবিকতার ধর্ম। আমরা সেটা কতটুকু মানি? আমাদের আরো বেশি মানবিক হতে হবে। অন্যের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে। মনের পশুত্ব দূর করতে হবে। নিষ্ঠুরতা পরিহার করতে হবে। তা না হলে সত্যিকারের মানুষ হওয়া যাবে না।
লেখক :মোস্তফা কামাল  , সাহিত্যিক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।

যদি লক্ষ্য থাকে অটুট

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে  শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

আমাদের জীবনের লক্ষ্য কি? আমরা কি হতে চাই? কি করতে চাই? তা আগেই; মানে স্কুল জীবন থেকেই স্থির করতে হবে। লক্ষ্য স্থির থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য তাড়না তৈরি হয়। সেই তাড়নাই মানুষকে লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে দেয়। ক্ষণে ক্ষণে লক্ষ্য পরিবর্তন হলে কখনোই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না।
ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা লক্ষ্য স্থির করতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। ভবিষ্যতে কি হতে চায় তা তারা ঠিক করতে পারে না। অনেকে আছে, যারা সবকিছুই হতে যায়। বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ডাক্তার কিংবা উদ্ভাবক। সব হতে গিয়ে কোনোটাই হওয়া হয় না।
মানুষের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে মস্তিস্কের একটা ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। কোনো মানুষ ইতিবাচক চিন্তা করলে তার মস্তিস্ক ইতিবাচক কাজ করে। আর কেউ নেতিবাচক চিন্তার হলে নেতিবাচক কাজ করে। কেউ যদি মনে মনে চিন্তা করে যে, সে বিজ্ঞানী হবে। তাহলে তার মস্তিস্ক তাকে সেইভাবে তৈরি করে। মস্তিস্ককে যে যেভাবে ব্যবহার করে সেভাবেই মস্তিস্ক কাজ করে।

এ প্রসঙ্গে আমি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমাদের গ্রামে এক হাতুড়ে ডাক্তার ছিলেন। তার নাম আবদুল করিম। তার এক ছেলে তিন মেয়ে। গ্রামে ওষুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। গ্রামের মানুষ তাকে হাতুড়ে ডাক্তার বলেই ডাকতেন। তাকে কেউ ভালো চোখে দেখতেন না।
আবদুল করিমের ছেলে আবু কায়সার ভীষণ মেধাবী ছাত্র। সে নিজের চোখে দেখে আসছে, গ্রামের লোকজন তার বাবাকে কতটা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। সে মনে মনে সংকল্প করেছে, বড় হয়ে সে ডাক্তার হবে। এমন ডাক্তার হবে যাতে তার বাবার দুর্নাম ঘুচে যায়।
আবু কায়সার দিন দিন লেখাপড়ায় ভালো করতে থাকে। এসএসসি, এইচএসসিতে খুব ভালো ফল করে। তারপর সে ভর্তি হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। ডাক্তারি পড়া শেষ করে সে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ পায়। সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসে। সে সোজা চলে যায় নিজের গ্রামে।
আবু কায়সারের হাতের যশ ভালো। তার যে রোগী আসে সেই ভালো হয়ে যায়। অল্প দিনের মধ্যেই আবু কায়সারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ঘুচে যায় তার বাবার দুর্নাম। আবু কায়সারের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সে মহাখুশি।
স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছি, সময় থাকতেই লক্ষ্য স্থির করে ফেলো। জীবনে সাফল্য পেতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। লক্ষ্য স্থির থাকলে সেখানে পৌঁছানো যাবেই। তবে হ্যাঁ, লক্ষ্য স্থির করে বসে থাকলে চলবে না। সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
আমি আমার জীবনেও তার প্রমাণ পেয়েছি। আমি ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম, আমি লেখক-সাংবাদিক হবো। সেই ভাবনা থেকেই লেখালেখির জগতে প্রবেশ করলাম। ধীরে ধীরে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে এগোতে থাকলাম। স্কুল জীবন থেকেই সংবাদ পত্রিকা পড়তে পড়তে ভাবতাম, এই পত্রিকাতে আমার ক্যারিয়ার শুরু করব।

কী বিধির বিধান! আমি সংবাদেই আমার ক্যারিয়ার গড়লাম। তারপর টানা ২৭ বছরের লেখালেখি ও সাংবাদিকতার জীবন। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে আমি সফল হয়েছি।
লেখক: মোস্তফা কামাল , সাহিত্যিক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ।

সেন্টমার্টিনে পরিবেশবান্ধব পর্যটনশিল্প বিশেষ জরুরি


বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রহিয়াছে, তাহার উপর যোগ হইয়াছে মানবসৃষ্ট কারণ। মূলত মানবসৃষ্ট কারণেই বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের শৈবাল, প্রবাল, কচ্ছপ, লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ নানা জলজ ও উভয়চর প্রাণী এবং পাখিসহ নানা জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হইবার পথে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, যথেচ্ছভাবে হোটেল-মোটেল নির্মাণ, নির্বিচারে গাছ কাটিয়া বন উজাড়, প্লাস্টিকসামগ্রীর বর্জ্যে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশে দারুণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলিয়াছে। ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপটিতে স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। ইহা ছাড়া প্রতিদিন গড়ে আরো ৯ হাজার পর্যটক সেখানে অবস্থান করে। ইহাতে ১৮ হাজার মানুষের চাপ নিতে হইতেছে দ্বীপটিকে।
সেন্টমার্টিনে পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পাওয়াকে পুঁজি করিয়া গত দুই দশকে এই দ্বীপে বহু হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট গড়িয়া উঠিয়াছে অবৈধভাবে। জানা গিয়াছে, এইগুলির কোনোটাতেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা অনুমতি নাই। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এই বিপুলসংখ্যক হোটেল-মোটেল কীভাবে গড়িয়া উঠিল তাহা লইয়া প্রশ্ন থাকিয়া যাইবে। সেন্টমার্টিনকে রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসাবে সরকারের কয়েকটি সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত লওয়া হইয়াছিল; যেমন, শুধু দিনের বেলায় পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে যাইতে পারিবেন, রাতে অবস্থান করিতে পারিবেন না; ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকসহ সকলের যাতায়াত বন্ধ থাকিবে, প্রতিদিন দুটি জাহাজে ৫০০ জনের বেশি পর্যটক যাইতে পারিবে না। চলতি বছরের ১ মার্চ হইতে এই সকল সিদ্ধান্ত কার্যকর হইবার কথা ছিল, কিন্তু এখনো তাহা কার্যকর হয় নাই। সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রভাব রাখিত। কিন্তু সিদ্ধান্তগুলির এখনো বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নাই। কেন হয় নাই, তাহার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লইতে হইবে বইকি। তাহা ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। দুঃখজনকভাবে এই ঘোষণা কেবল কাগজে-কলমে রহিয়া গিয়াছে, বাস্তবে ইহার কোনো প্রতিফলন আমরা এতদিনেও দেখিতে পাই নাই, সেন্টমার্টিন রক্ষায় সরকার এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করিতে পারে নাই।
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ যেইভাবে বিপর্যস্ত হইয়াছে এবং যদি এইভাবে চলিতে থাকে, তাহা হইলে অদূর ভবিষ্যতে এখানকার জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণরূপে বিলীন হইয়া যাইবে। সুতরাং সেন্টমার্টিন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে এবং সেইখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনশিল্প গড়িয়া তুলিতে হইবে।


- ইত্তেফাক

মানুষ বাঁচে তার কর্মের গুণে

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

কথায় বলে, যেমন কর্ম তেমন ফল। আবার বলা হয়, জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো। কর্ম ভালো না হলে রাজপরিবারে জন্ম নিয়েও কোনো লাভ নেই। আবার অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও কর্মের গুণে মানুষ উঁচু স্থান দখল করতে পারে।
আসলে কোনো কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত না। একটা ছোট কাজ থেকেও বড় কিছু অর্জন করা যেতে পারে। কিন্তু কাজটাকে ভালোবাসতে হবে। সম্পূর্ণ আন্তরিকতা ও দরদ দিয়ে কাজটা করতে হবে। ফাঁকিবাজি করলে কিংবা তুচ্ছাতাচ্ছিল্য করে কাজ করলে তাতে সফলতা আসে না।
লেখাপড়া করতে গেলে যেমন প্রথমে 'অ আ ক খ' কিংবা 'এ বি সি ডি' পড়তে হয়। স্কুলে প্লে গ্রুপ কিংবা ওয়ানে ভর্তি হতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে ওপরের ক্লাসে উঠতে হয়। লেখাপড়ায় মনোযোগ না থাকলে, আন্তরিক না হলে যেমন ক্লাসে ভালো করা যায় না, পড়ায় ফাঁকি দিলে অনেক সময় ওপরের ক্লাসেও ওঠা যায় না।
লেখাপড়া শেষ করতে দীর্ঘ সময় চলে যায়। সেই সময়ে চড়াই উৎরাই থাকে। থাকে টানাপড়েন। কখনো হোঁচট খেতে হয়। কখনো পা মচকায় আবার ভেঙেও হয়তো যায়। তারপরও কিন্তু এগিয়ে যেতে হয়। কেউ যদি কোনো ক্লাসে একবার অকৃতকার্য হয় তখন যদি সে লেখাপড়া থামিয়ে দেয় তাহলে কি এগোতে পারবে? পারবে না। তার মানে তাকে আবার পুর্নোদ্যমে শুরু করতে হয়।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। চাকরি কিংবা ব্যবসা করতে গেলে গোড়া থেকে শুরু করতে হয়। শুরুতেই কেউ সচিব, অতিরিক্ত সচিব হয়ে যায় না। চাকরি জীবনেও নানা স্তর আছে। প্রতিটি স্তরেই তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়। সেখানেও তাঁকে নানা বাধা বিপত্তি ডিঙিয়ে যেতে হয়।
আমাদের দেশের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীর গল্প শুনেছি। তারা কেউই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি। কর্মজীবনের শুরুতে তাঁরা যখন ব্যবসা শুরু করেছেন তখন তাঁদের হাতে কেমন টাকা পয়সা ছিল না। তারা প্রায় শূন্য থেকে শুরু করেছেন। ধীরে ধীরে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে তারা ওপরের দিকে উঠে আসেন। যিনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি হয়তো একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই গড়েন। সেই প্রতিষ্ঠান হয়তো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা মানুষটি বেঁচে থাকেন।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদকে আমি স্বপ্নবাজ মানুষ মনে করি। বড় স্বপ্ন না থাকলে তিনি এত বড় প্রতিষ্ঠান গড়তে পারতেন না। তিনি শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই। সেই পথচলা ছিল খুবই ছোট্ট পরিসরে। ধীরে ধীরে স্বপ্ন বুনতে বুনতে তিনি উঠে গেলেন স্বপ্নের চূড়ায়। ব্র্যাক দাঁড়াল মাথা উঁচু করে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পরল এর কর্মপরিধি।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্র্যাকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সরকারের পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে তা তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটি আর্থ-সামাজিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন স্যার উপাধি। একদিন তিনি থাকবেন না; থাকবে তাঁর রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফজলে হাসান আবেদ বেঁচে থাকবেন। এভাবেই মানুষ তাঁর কর্মের মাঝে বেঁচে থাকেন।
লেখক :মোস্তফা কামাল , ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও সাহিত্যিক 

ধৈর্য ধারণ একটি মহৎ গুণ

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে  শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।
কথায় আছে, সবুরে মেওয়া ফলে। মহান সৃষ্টিকর্তা নাকি সব সময় ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে অসীম ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। মাথা গরম করলে কিংবা ধৈর্য হারালে বিপদে পড়তে হয়। এ কথা হয়তো আমরা সবাই জানি। তারপরও ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। অল্পতেই অধৈর্য হয়ে যাই।
একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, যা হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় তাতে ভালো কিছু থাকে না। গলদ থাকার আশঙ্কাই বেশি থাকে। চেষ্টা করে করে যা অর্জন করা যায় তা অবশ্যই কল্যাণকর। যারা খুব দ্রুত সবকিছু পেয়ে যান তাদের দ্রুতই পতনের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। যারা অনেক কষ্ট সাধন করে অর্জন করেন তারা অনেক দুর্যোগ দুর্বিপাকেও অটল থাকেন।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো কোনো একটা খাতে বিনিয়োগ করেছেন। বিনিয়োগের পরই তিনি লাভ করতে চান। ব্যবসায় যে ঝুঁকি থাকতে পারে কিংবা লাভ পেতে হলে যে একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তা তারা মানতে রাজি নন। তারা হয়তো একটা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। দ্রুত লাভ না পেয়ে ওই ব্যবসা ছেড়ে আরেক ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। এভাবে একের পর এক ব্যবসা বদল করতে থাকেন। এটা ঠিক নয়। যেকোনো একটাকে ধরে রাখুন। ধৈর্য ধরুন। নিষ্ঠার সাথে কাজটা সম্পন্ন করুন। দেখবেন সফলতা আসবেই।
দুর্নীতি, অন্যায় অনিয়ম করে যে কেউ দ্রুতই বিত্ত-বৈভবের মালিক হতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে গতিতে অর্থবিত্তের মালিক তিনি হয়েছেন তার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে পতন ঘটবে। এটাই প্রকৃতির বিধান। আর যিনি সততা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে অর্থ-বিত্তের মালিক হবেন তার পতনের ঝুঁকি কম।
আমরা অনেক সময়ই দেখি, কেউ কেউ চাকরি ক্ষেত্রে নানা কৌশল করে তর তর করে ওপরে উঠতে থাকেন। যখন ওপরে উঠেন তখন আর কোনো কিছু পরোয়া করেন না। হিতাহিত জ্ঞানও তাদের লোপ পেয়ে যায়। তাদের যখন পতন ঘটে তখন আর তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না।
অনেকে আপসোস করেন, এখনো কিছু করতে পারলাম না। এখনো কিছুই হলো না। আবার অনেকে ভাগ্যকে দোষ দেন। কেউ যদি ভাগ্যকেও বিশ্বাস করেন তাহলে বলবো, ভাগ্যের চাকা ঘুরতে কিন্তু বেশি সময় লাগে না। আপনি ধৈর্য নিয়ে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করুন। অচিরেই দেখবেন, ভাগ্য আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে।
আসলে সবকিছুর মূল হচ্ছে কাজ। কর্মনিষ্ঠা ছাড়া কেউই উন্নতি সাধন করতে পারে না। আর তর তর করে উন্নতি করলে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। একটা ইমারত যখন নির্মাণ করা হয় তখন ইটের পর ইট গেঁথেই কিন্তু তা নির্মিত হয়।
জীবনটাও একটা ইমারতের মতো। একে পরম যত্নে লালন করতে হয়। স্বপ্ন বুনতে বুনতে এগোতে হয়। জীবনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে আছড়ে পড়তে হয়। হোঁচট খেয়ে পা মচকেও যেতে পারে। তাই বলে কি জীবন থেমে থাকে?
সবসময় হয়তো জীবনকে সমানভাবে টেনে নেওয়া যায় না। উত্থান-পতন থাকে। শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন থাকে। সেসব পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হয়। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। এই যে দীর্ঘ পথচলায় জটিল-কুটিল পথ পাড়ি দিতে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হয়। অধৈর্য হয়ে গেলে কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয় না। কাজেই ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম। 
 
লেখক : মোস্তফা কামাল , ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও সাহিত্যিক। 
- কালের কণ্ঠ 

হাল ছেড়ো না বন্ধু



তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।
সম্ভাবনা এবং বিপদ একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলে। জীবনে চলার পথে অনেক ধরনের বাধা-বিপত্তি আসতে পারে। বিপদও ঘটতে পারে। তাই বলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে! হিমালয়ের চূড়ায় উঠতে হলে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে হয়। যারা পাহাড় বেয়ে ওঠে তারা সবাই জানে, পা ফসকে পড়লেই নির্ঘাত মৃত্যু। সেই মৃত্যুর আশঙ্কা উপেক্ষা করেই তো মানুষ হিমালয় পর্বতের চূড়ায় ওঠে এবং হিমালয় জয় করে।
ভয়ংকর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যে মানুষ জন্ম লাভ করে তাকে তো প্রতি মুহূর্তেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগোতে হয়। চ্যালেঞ্জ না নিলে তো কোনো সম্ভাবনাই তৈরি হবে না। আকাশ ভেঙে পড়ার ভয়ে কেউ যদি বাড়ির বাইরে না যায় তাহলে সফলতা তার কাছে কখনোই ধরা দেবে না। বরং পদে পদে সে বিপদে পড়বে।

অনেক সময়ই আমরা দেখি, ব্যর্থ হয়ে অনেকে ভাগ্যকে দোষ দেন। সফল না হলে অনেকে বলেন, কপাল মন্দ, তাই সফল হতে পারলাম না। অনেকে জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে বলেন, দেখেন তো ভাই, আমার ভাগ্য খুলবে কবে? কিংবা বলেন, আমার ফাড়া কতদিন থাকবে?
মানুষের ভাগ্যের কথা যদি জ্যোতিষ বলতে পারত তাহলে তো নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করে ফেলতো। জ্যোতিষগিরি করতে হতো না।
বার বার ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত অনেকে আবার ছুটে যান পীর-ফকিরের কাছে। বিপদে যেন তারাই রক্ষাকর্তা! এ কথা কেউ ভাবে না যে, কোনো মানুষই শতভাগ সফল নয়। আজ যিনি সফল তিনি নিশ্চয়ই জীবনের শুরুতে অনেক ধকল সয়েছেন।
আগে আমরা শুনতাম, কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না। জীবনের শুরুতে প্রত্যেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোতে হয়। আমরা মানুষের সাফল্যগাঁথা দেখে আনন্দিত হই। কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কত শ্রম-ঘাম ঝরাতে হয়েছে তা আমরা অনুভব করতে চাই না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, রাত না থাকলে আমরা দিনের মর্ম বুঝতে পারতাম না। রাত কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। রাতের আঁধার কেটে সূর্য উঠবেই। মানুষের জীবনও তাই। সারাজীবন কোনো মানুষের জীবনে বিপদ থাকে না। দুঃখ থাকে না। ভালো সময় আসে। ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। দুঃসময় থেকে সুসময়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হয়। সময়টাকে বদলাতে কেউ হয়তো একবারই পারে। আবার কেউ সাতবারের প্রচেষ্টার পর সফল হয়।
একবার হয়নি বলে যে দ্বিতীয়বার হবে না বা দ্বিতীয়বার হয়নি বলে যে তৃতীয়বার হবে না তা মনে করা ঠিক না। মানুষের জীবনে ব্যর্থতা একটা অভিজ্ঞতা। কোনো মানুষই বলতে পারবে না যে, তার জীবনে কোনো ব্যর্থতা নেই। মনে রাখতে হবে, যতবার ব্যর্থ হবে ততবারই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হবে। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে অনেক কাজে লাগবে। 
অনেকে বার বার ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে বসে থাকেন। এটা ঠিক নয়। কোনো অবস্থাতেই হাল ছেড়ে দিতে নেই। হাল ছেড়ে দিলেই সব শেষ! চরম দুর্যোগে কিংবা সংকটে যে মনোবল শক্ত রাখতে পারে তার জীবনে সফলতা আসবেই।
লেখক : মোস্তফা কামাল , ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের কণ্ঠ ও সাহিত্যিক। 
- কালের কণ্ঠ

স্মৃতিস্তম্ভ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
          চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
          পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
          যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
           ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
           চারকোটি পরিবার ।
এ-কোন মৃত্যু ? কেউ কি দেখেছে মৃত্যু এমন,
শিয়রে যাহার ওঠেনা কান্না, ঝরেনা অশ্রু ?
হিমালয় থেকে সাগর অবধি সহসা বরং
সকল বেদনা হয়ে ওঠে এক পতাকার রং
এ-কোন মৃত্যু ? কেউ কি দেখেছে মৃত্যু এমন,
বিরহে যেখানে নেই হাহাকার ? কেবল সেতার
হয় প্রপাতের মোহনীয় ধারা, অনেক কথার
পদাতিক ঋতু কলমেরে দেয় কবিতার কাল ?
ইটের মিনার ভেঙেছে ভাঙুক । একটি মিনার গড়েছি আমরা
           চারকোটি কারিগর
বেহালার সুরে, রাঙা হৃদয়ের বর্ণলেখায় ।
           পলাশের আর
রামধনুকের গভীর চোখের তারায় তারায়
দ্বীপ হয়ে ভাসে যাদের জীবন, যুগে যুগে সেই
            শহীদের নাম
এঁকেছি প্রেমের ফেনিল শিলায়, তোমাদের নাম ।
            তাই আমাদের
হাজার মুঠির বজ্র শিখরে সূর্যের মতো জ্বলে শুধু এক
            শপথের ভাস্কর ।

কবি- আলাউদ্দিন আল আজাদ---মানচিত্র

আলাউদ্দিন আল আজাদ সম্পর্কে বিস্তারিত...

আলাউদ্দিন আল আজাদ  (১৯৩২-২০০৯)  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে। পিতা গাজী আব্দুস সোবহান।
আলাউদ্দিন আল আজাদ

আলাউদ্দিন আল আজাদ নারায়ণপুর শরাফতউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (১৯৪৭), ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (১৯৪৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪) এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবন ও কবিতা বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি (১৯৭০) লাভ করেন। পরে তিনি অরগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে উচ্চ প্রশিক্ষণও (১৯৮৩) গ্রহণ করেন। আলাউদ্দিন আল আজাদ অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ও বার্ষিকী সম্পাদকের দায়িত্ব (১৯৪৭-৪৯) পালন করেন।
তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-৫৪), ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি ও পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের সহসভাপতি (১৯৫৭-৬০) ছিলেন। পাকিস্তানের প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁকে সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। দেশ বিভাগের পরে তিনি দেশের চলমান প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
ছাত্রাবস্থায় আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদপত্রে খন্ডকালীন চাকরি করেন। অধ্যয়ন শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজ (১৯৫৫), ঢাকা জগন্নাথ কলেজ (১৯৫৬-৬১), সিলেট এমসি কলেজ (১৯৬২-৬৮) এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ (১৯৬৪-৬৭)-এ অধ্যাপনা করেন। তিনি ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এক বছর (১৯৭৪-৭৫)। কিছুকাল (১৯৭৬-৮১) মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে Education Attaché কাজ করার পর তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টার দায়িত্ব (১৯৮২-৮৯) পালন করেন। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল প্রফেসর ও নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব (১৯৯০-৯২) পালন করেন।
বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। এ সময়ে যাঁরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী ভাবধারায় তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন। প্রথম জীবনে গ্রামের মানুষ ও তাদের সংগ্রাম, প্রকৃতির ঐশ্বর্য ও সংহারমূর্তি দুইই তাঁর মনে ছাপ ফেলে গেছে। নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্ত্ত করেছেন। এ পর্যায়ের তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ জেগে আছি (১৯৫০), ধানকন্যা (১৯৫১), জীবন জমিন (১৯৮৮) প্রভৃতি। ষাটের দশকে রচিত তাঁর উপন্যাস, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) ও কর্ণফুলী (১৯৬২) ব্যাপক সাড়া জাগায়। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত। এ চলচ্চিত্রটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য। তাঁর মরক্কোর যাদুকর (১৯৫৯), মায়াবী প্রহর (১৯৬৩) ও ধন্যবাদ (১৯৬৫) অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ নাটক। তাঁর অন্যান্য নাটকের মধ্যে ধন্যবাদ (১৯৫১), নিঃশব্দ যাত্রা (১৯৭২), নরকে লাল গোলাপ (১৯৭২) প্রধান। তাঁর দুটি কাব্যনাট্য, ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।
আলাউদ্দিন আল আজাদের সাহিত্য-সমালোচনা ও মননশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় শিল্পীর সাধনা (১৯৫৮), সাহিত্যের আগন্তুক ঋতু (১৯৭৪), নজরুল গবেষণা: ধারা ও প্রকৃতি (১৯৮২), মায়াকোভস্কি ও নজরুল (১৯৮৫), সাহিত্য সমালোচনা (১৯৮৯) প্রভৃতি গ্রন্থে। মহান একুশে নিয়ে তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতার কয়েক পংক্তি:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো! যে-ভিৎ কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরার মুকুট নীল পরোয়া খোলা তলোয়ার
খরের ঝটিকা ধূলায় চূর্ণ যে-পদপ্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক, ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার।
আলাউদ্দিন আল আজাদের কাবগ্রন্থগুলির মধ্যে মানচিত্র (১৯৬১), ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২), লেলিহান পান্ডুলিপি (১৯৭৫), নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ (১৯৮৩) সাজঘর (১৯৯০) ও শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৮৭) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আলাউদ্দিন আল আজাদ ভাষা আন্দোলনের গণমুখী ও স্বদেশপ্রেমী সাহিত্যধারার লেখক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে প্রেরণাদীপ্ত দায়িত্ববান শিল্পীর ভূমিকা গ্রহণে উজ্জীবিত করে। মানুষ ও সমাজ আলাউদ্দিন আল আজাদের সাহিত্য ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর আদর্শবোধ ও প্রগতিশীলতা তাঁর সৃষ্ট সাহিত্যে বাঙ্ময় রূপ লাভ করেছে।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আলাউদ্দিন আল আজাদ বেশসংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হন। তার মধ্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৪), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৪), জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার (১৯৭১), একুশে পদক (১৯৮৬), দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বর্ণপদক (১৯৯৪) উল্লেখযোগ্য। তাঁর মৃত্যু ঢাকায়, ৩ জুলাই ২০০৯। [মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম]

সূত্র: বাংলাপিডিয়া থেকে নেওয়া।

আর ও বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন 

আমার প্রথম বই কবিতার ‘খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে’ – আনিসুল হক


 ইন্টারভিউ: আপনার জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৫, নীলফামারিতে, এটা কি সার্টিফিকেট ইনফরমেশন? কোনো কোনো জায়গায় ৩ মার্চও দেখা যায়।
আনিসুল হক: আমার জন্মতারিখ আসলে তিনটা। একটা ১ জানুয়ারি, এটা সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্টে আছে; একটা ৩ মার্চ এবং আরেকটা ৪ মার্চ, এই দুটো বইয়ের পেছনে আছে। পহেলা জানুয়ারিটা ভর্তির সময় থেকে বাবা-মা দিয়ে রেখেছেন, হয়ত হিসাবের সুবিধার্থে, এছাড়া অন্য কোনো কারণ দেখি না। আমাদের প্রায় সব ভাই-বোনেরই জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি দেয়া আছে। আমার আসল জন্মতারিখ কবে সেটা জানার প্রয়োজন বোধ করিনি অনেকদিন। আমি যখন বুয়েটে পড়ি, তখন একদিন আমাদের রংপুরের বাসায় পুরোনো ট্রাংক খুলে একটা ডাইরি পাওয়া গেল। সেখানে লেখা ছিল যে, আনিসুল হকের জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৫। এটা দেখে রংপুর থেকে ছুটি শেষে আবার ঢাকায় আসি, তারপর মার্চ আসে, আমি সিদ্ধান্ত নেই যে আমি আমার বন্ধুদেরকে খাওয়াব। কিন্তু আমার মস্তিষ্কের একটা বৈশিষ্ট্য হলো, আমি সংখ্যা বা নাম্বার মনে রাখতে পারি না। ৪ মার্চ সেটা দেখে এসেছি ঠিকই কিন্তু ঢাকায় আসতে আসতে সেটা ভুলে গেছি, আমার মনে হচ্ছে তারিখটা ৩ মার্চ, তাই ৩ মার্চ জন্মদিন পালন করি। বইয়ের পেছনে লিখি ৩ মার্চ। আর সংখ্যাতত্ত্ব হিসেবে দেখা যায়, আমার জন্ম মার্চ মাসে, মার্চ ৩ নম্বর মাস। আমি একটা তিনের জাতক, এই ভেবেই আমি বহুদিন চলাফেরা করেছি। এরপর আবার যখন বাড়ি যাই তখন দেখি, আব্বার নিজের হাতে লেখা এটা ৪ মার্চ। এখন, এই ভুলটা আমি বহন করে চলতে পারতাম, কিন্তু এটা সংশোধন করে ৪ মার্চে নিয়ে গেছি। ফলে যেটা দাঁড়িয়েছে যে, আমার যে সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস ছিল বা আমি ভাবতাম, ৩ আমার জন্য বিশেষ সংখ্যা এবং দেখতাম যে ৩ অনেকাংশে মিলে যায়, সেটা যে ভুয়া তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। আমার জন্ম হয়েছে নীলফামারিতে, এটা তখন রংপুর জেলার অন্তর্গত ছিল। জন্মের কয়েক মাসের মধ্যে আমরা রংপুর শহরে চলে আসি। আব্বা বদলি হয়ে চলে আসেন।
 ইন্টারভিউ: আপনার ছেলেবেলা এবং এখনকার ছেলেবেলার মধ্যে কোন পার্থক্যটা চোখে পড়ে?
আনিসুল হক: আমার মনে হয়, আমাদের সময়ে বাবা-মার সন্তানের সংখ্যা বেশি থাকতো। আমরা অনেক স্বাধীন জীবনযাপন করেছি, তবে হয়তো নিরাপত্তার বোধও ছিল। আমি যে বন্যার জলে নৌকা নিয়ে গেছি সেই নৌকা ডুবে গিয়েছিল, আমি সাঁতরে উঠেছি। আমি গরুর গাড়ি করে ধান আনতে গিয়ে ব্রিজের নিচে পড়ে গিয়েছি, আমি সেই ধানের বস্তার নিচে চাপা পড়তে পারতাম। আমি গাছের মগডালে অনেক উঁচুতে উঠে আর নামতে পারছিলাম না, কিভাবে যে বুকে বেয়ে বেয়ে নিঃসঙ্গ উঁচু একটা শাখা পার হয়েছি সেটা শুধু আমি জানি। সে কথা মনে করলে এখনও আমার ভয়ে শরীর শিউরে ওঠে যে আমি মারা যেতে পারতাম। কিন্তু এগুলি করার ব্যাপারে আমাদের বাবা-মারা অনুমতি দিয়েছেন। আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এই স্বাধীনতার সুফলটা কী হলো, আমি যখন ঢাকা শহরে এলাম, এসে তো আমার কোনো মামা, চাচা, ভাই লেখালেখির জগতে আমাকে নিয়ে আসেনি। আমি নিজে নিজে এসেছি। আমি আজকে প্রথম আলোতে যে কাজ করি, আমার বাবা, চাচা বা মামা সম্পাদককে ফোন করে বলে দেয়নি যে আনিস যাচ্ছে, তাকে একটা জায়গা করে দেন। আমার লেখা যে ছাপা হয়েছে, কেউ কোন ফোন করে বলে নাই যে, ওর লেখা ছাপো। টেলিভিশনে আমার যে নাটক প্রচারিত হয়েছে কেউ ফোন দিয়ে অনুরোধ করে বলে দেয়নি, আনিসের নাটকটা প্রচার করে দাও। আজকে আমার নাটক যে কোনো চ্যানেলে প্রচার হয়। আমি যদি একটা চ্যানেলে যাই সেখানকার কর্মকর্তারা আমাকে দেখলে এক কাপ চা খাওয়াবেন। এই ভালোবাসাটা আমি পাচ্ছি, এটা কিন্তু আমি আমার নিজের যোগ্যতায় নিজের সংগ্রাম দিয়ে অর্জন করেছি। কিন্তু আজকের যে ছেলেটা, আমার মেয়েটা ওদেরকে আমরা সব জায়গায় আঙ্গুল ধরে নিয়ে যাই। ওদেরকে স্কুলে নামিয়ে দিতে হয়, স্কুল থেকে কেউ না কেউ ওদেরকে গিয়ে নিয়ে আসছে। ও তো সংগ্রাম কাকে বলে বুঝছে না। ফলে যখন আমরা থাকবো না, পৃথিবীতে ওরা একা থাকবে, তখন ওরা কী করবে? সেটা আমরা কাছে খুব চিন্তার বিষয় মনে হয়।
 ইন্টারভিউ: আপনার প্রথম লেখালেখির গল্প সম্পর্কে বলুন।
আনিসুল হক: আমার প্রথম লেখা ছাপার অক্ষরে বেরিয়েছে যখন আমি ইন্টারমেডিয়েট পড়ি। অনিক রেজা নামে একটা ছেলে, সে পরে আর্ট কলেজে পড়াশুনা করে, রংপুরে আছে। ও একটা লিটল ম্যাগাজিন বের করবে। সে বলল, আমাকে একটা কবিতা দেন। আমি বললাম, কবিতা মানে কি বড়দের কবিতা না ছোটদের কবিতা? সে বলল বড়দের কবিতা। মিলটিল দিয়ে ছড়া লিখলে চলবে না। তখনও আমি কচি-কাঁচার মেলা করি, বাচ্চাদের জন্য পদ্য লিখি, কিন্তু কবিতা বলতে আসলে কী বোঝায় সেসব ভাবছি এবং রবীন্দ্রাথের ক্যামেলিয়া, বাঁশি ইত্যাদি গদ্য কবিতাগুলো পড়ছি, ভাবছি, ছন্দ ছাড়া কীভাবে কবিতা হয়। তখন পড়া শুরু করলাম শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণের কবিতা; এর আগে সুকান্ত পর্যন্ত মুগ্ধ ছিলাম। কিন্তু কবিতার যে একটা নতুন ধরন সেই জগতই তো খুলতে শুরু করল। ও যখন চাইল, আমি দুটো কবিতা লিখে ওকে দিলাম। ফলে প্রথম লেখা ছিল কবিতাই। সে যে আমাকে কবিতার মধ্যে ঠেলে দিল এরপর থেকে আমি ক্রমাগত কবিতা পড়ছি এবং বোঝার চেষ্টা করছি কেন গদ্যে লেখা সত্ত্বেও একটা কবিতা হয় আরেকটা গদ্য হয়। ঐটা আবিষ্কারের নেশা থেকে আমি ক্রমাগত লিখে গেছি। এখনও আবিষ্কার করে উঠতে পারিনি।
 ইন্টারভিউ: প্রথম লেখার প্রেরণাটা কীভাবে পেলেন?
আনিসুল হক: আমি একদম ছোটবেলা থেকেই লিখি। প্রথম লেখা লিখেছি ক্লাস ওয়ানে। ছোটবেলায় রংপুরে আমরা শ্লোক বলতাম। আসলে ধাঁধাকে শ্লোক বলতাম। যেমন- তিন অক্ষরে নাম যার জলে বাস করে, মধ্যের অক্ষর কেটে দিলে আকাশেতে ওড়ে। এগুলো আমি ছোটবেলায় বানানোর চেষ্টা করেছি। অন্ত্যমিল দেয়ার চেষ্টা করেছি। এরপর স্কুলে যখন ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান হতো আমি নিজের লেখা কবিতা পড়ে শোনাতাম।
 ইন্টারভিউ: বড় হয়ে লেখক হবেন এমন স্বপ্ন কি তখন কাজ করত?
আনিসুল হক: বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর আমি ঘোষণা দিলাম যে, আমাকে কবি হতে হবে। এ জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত আছি। আমার একটা বন্ধু ছিল ফার্স্টইয়ারে, শহীদ স্মৃতি হলে আমার সাথে থাকত, শাহিন। সেও বলেছিল, তাকে কবি হতে হবে এবং ফার্স্টক্লাস পেতে হবে। প্রথম শ্রেণীর প্রকৌশলী হতে হবে। পরে সে অবশ্য মারা গেছে। ফলে আমার রেজাল্ট খারাপ হতে শুরু করল। ফার্স্টক্লাস পেলাম না। আমার আব্বার মৃত্যু একটা কারণ, পরীক্ষার মাঝখানে আব্বা মারা গেলেন। পরে ভালো প্রকৌশলী হবার ট্র্যাকটা আর ধরতে পারিনি। আমার ক্লাসের মেয়েরা বলল, তুমি যে পড়ালেখা করছ না, তুমি কী করবে? তখন বলেছিলাম, আমি সংবাদপত্রে কাজ নেব এবং লেখালেখি করব।
ইন্টারভিউ: ছেলেবেলায় কোন লেখকের লেখা আপনাকে মুগ্ধ করত?
আনিসুল হক: তখন লেখকদের নামের দিকে দেখতাম না। গল্পটা পড়তাম। বড় হয়ে দেখি যে শিবরামের গল্প আমি পড়েছি। লেখকের নাম পড়তাম না, কিন্তু গল্পটা পড়েছি। ছোটবেলায় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা খুকী ও কাঠবিড়ালি, রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ ইত্যাদি কবিতাগুলি আমি খুবই পছন্দ করতাম। পিটিআইয়ের কোনো কোনো ব্যাচেলর টিচারদের রুমে বই পেতাম। ফররুখ আহমদ, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা পড়েছি। খুব ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পছন্দ করতাম। একটু বড় হয়ে ছোটগল্প পছন্দ করেছি, রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ। হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প আমি স্কুলে থাকতে পড়েছি। গল্প যেহেতু ৫-৭ পৃষ্ঠায় শেষ হয়, ফলে পড়ে ভালো বোধ করতাম।
 ইন্টারভিউ: আপনি হয়তো অসংখ্যবার এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন, তবু আর একবার, পাঠকদের জন্যে, আপনার প্রথম বই সম্পর্কে জানতে চাই।
আনিসুল হক: আমার প্রথম বই কবিতার- খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে। এটি বেরিয়েছিল ১৯৮৯ সালে। আমি তখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় ৪র্থ বর্ষে পড়ি। কবিতাগুলো লেখা হয়েছিল ১৯৮৩-৮৪ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত। সেই হিসেবে আমার নিজের বয়স ১৮/১৯ থেকে শুরু করে ২৩/২৪ বছরের একজন কিশোর তরুণ যা লিখতে পারে, তা এখানে ছিল। আবেগ ছিল। ‘খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে’ এই নামটি শুনলেই বোঝা যায় যে, একটা লক্ষ্য থেকে এটা লেখা। যদিও কয়েকজন সমালোচক-কবি কবিতাগুলো পছন্দই করেছিলেন। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন হুমায়ুন আজাদ। তিনি আমার গদ্যকার্টুন বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন যে, আনিসুল হক যখন নিষ্পাপ ছিল তখন সে খোলা চিঠি লিখেছিল সুন্দরের কাছে। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা- আমি জানতাম না যে, ‘দিকচিহ্ন’ নামে একটি কবিতার কাগজে তাঁর লেখা আলোচনা ছাপা হয়েছে বইটির। আমাকে যথেষ্ট উৎসাহিত করেছিলেন, প্রশংসা করেছিলেন আর কি।
 ইন্টারভিউ: আপনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি যদি কবি হই তাহলে জনতার দ্বারা অভিষিক্ত হব না, বাসের ভিড়ের ভেতর আমার জন্য কেউ আসন ছেড়ে দেবে না- এটা আমি জানি। তারপরও আমি চাই, যদি দু’জনও সমঝদার লোক থাকেন, তবে তাদের কাছে আমি যেন কবি হিসেবেই গ্রাহ্য হই…
আনিসুল হক: এই কথা থেকে আমি সরে আসছি না। আমি মনে করি, কবিতা লিখে আপনি উপন্যাসিকের মতো খ্যাতি পাবেন না, গুরুত্ব পাবেন না। কবিতা লিখে গায়ক বা ফিল্মস্টারদের মতো বা খেলোয়াড়দের মতো সেলিব্রিটি তো হবেনই না, প্রশ্নই আসে না। কিন্তু যেটি হয়, যেমন জীবনানন্দ দাশ- তার জীবনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিনি উপেক্ষিত ছিলেন। এমনকি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মতো বড় কবি, তখন যাকে কলকাতা শহরে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হতো, তিনি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর বলেছিলেন, যিনি কবি নন তার উপর একটা স্মরণিকা বের করার দরকার কী? মানে জীবনানন্দ দাশ মারা গেছেন, বুদ্ধদেব বসু একটা সংকলন বের করবেন, সেটার জন্য লেখা চাইতে গিয়েছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাছে। সুধীন তখন এ কথা বলেছিলেন। এমন ভুল বোঝাবুঝি হয়েই থাকে। কিন্তু একজন বুদ্ধদেব বসু ঠিকই টের পেয়েছিলেন যে জীবনানন্দ দাশ বড় কবি। জীবনানন্দ দাশের কিছু তরুণ ভক্ত তৈরি হয়েছিল, তারা বুঝতে পেরেছিলেন জীবনানন্দ দাশ অনেক বড় কবি। যতই দিন যাচ্ছে তিনি বড় কবি হয়ে উঠছেন। ফলে কবি হলে নিঃসঙ্গ হতে হবে, তাকে কষ্ট পেতে হবে, এ কথা জানার পরেও যিনি কবি তিনি একজন পাঠক বা ভবিষ্যতে কোনো একদিন কোনো একজন পাঠক তাকে বুঝবেন, এই আশা থেকে তিনি লিখে যাবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইন্টারভিউ: বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও আপনার এমন আকাঙ্খাই প্রতিভাত হয়েছে যে, লোকে মানুক বা না মানুক আপনি এই পরিচয়টা মানুষকে দিতে চান।
আনিসুল হক: হ্যাঁ, এটা আমি দিতে চাই। এখন মানুষ নেবে কিনা দেবে কিনা এটা বলা খুব মুশকিল। কবিতা সমকালে বোঝা নাও যেতে পারে। অনেক সময় সমকাল কাউকে গুরুত্বপূর্ণ কবি বলে মনে করে। পরে দেখা যায়, তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর বা কয়েক দশক পর দেখা যায় যে তাকে লোকে ভুলে যায়। এটা শিল্প-সাহিত্যের যে কোনো মাধ্যমেই হতে পারে। যাইহোক, একটা কবিতা আছে- আমি হয়ত মিশিয়ে ফেলছি, নির্মলেন্দু গুণের একটা কবিতা আছে আর নিকানোর পাররার নামে আরেকজন কবির কবিতা আছে : আপনি তো কবি, সাক্ষাৎকারের মতো কবিতাটা; কবি বলছেন, আমি যখন কবিতা লিখেছিলাম তখন আমি কবি ছিলাম। এখন এই মুহূর্তে তো আমি লিখছি না, এখন আমি কবি না। এটাও কিন্তু সত্য। কবি তখনই কবি যখন তিনি কবিতাটা লেখেন। এ কারণেই আমি বলছি, তারা লম্বা চুল রাখেন, পাঞ্জাবি পরেন, তারা কিন্তু নিজেকে সার্বক্ষণিক কবি ভাবেন। সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারভিউ: একটি কবিতা বা গল্প এক বা একাধিক পত্রিকায় প্রকাশের ব্যাপারটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
আনিসুল হক: আমার ক্ষেত্রে কখনো কখনো এটা ঘটেছে। কাজেই এটাকে খুব খারাপ বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। অনেকের ক্ষেত্রেই এটা ঘটেছে। আমি যেটা সংবাদপত্রে, প্রথম আলোতে লিখি সেটা অন্য কোনো দৈনিক পত্রিকায় দেই না। কিন্তু কেউ এসে যখন কোনো স্মরণিকা বা স্কুল ম্যাগাজিনে, একটা লেখা চায়, তখন বলি যে আমার প্রকাশিত বই থেকে তোমরা যে কোনো একটা লেখা নিয়ে নাও। এমন করেছি। তবে না করা ভালো।
ইন্টারভিউ: আপনার একটি কবিতা ‘কিছুই বলা হলো না’ প্রথম পড়েছিলাম প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৪-এ, এরপর ঐ লেখাটি লিটল ম্যাগাজিন সবুজ অঙ্গনে ‘আত্মকথা’ শিরোনামে ছাপা হয়েছে।
আনিসুল হক: কিছুই তো বলা হলো না। হ্যাঁ, হয়েছিল। কিন্তু এটা প্রথম আলোতে হয়েছিল, মনে নেই। অনেক ক্ষেত্রে আমি ভুলে যাই, সব কম্পিউটারে থাকে তো।
 ইন্টারভিউ: নির্মলেন্দু গুণ আপনার প্রিয় কবি। কিন্তু সৈয়দ শামসুল হক? আপনি তাঁর কথা প্রায়ই বলেন…
আনিসুল হক: আমার প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ এতে কোনো সন্দেহ নেই। এবং নির্মলেন্দু গুণকে সাহিত্য সমালোচকরা বিচার করতে ভুল করছেন বলে আমার মনে হয়। অনেকে মনে করতে পারে যে তিনি তরল বা জনপ্রিয় কবি। কিন্তু আসলে গভীর, উপলব্ধিময়, জীবনের অভিজ্ঞতাঋদ্ধ যেসব কবিতা তাঁর আছে, সেসব একা একা পড়লে মনে হয় হৃদয়টা শুশ্রূষা পাচ্ছে। আর সৈয়দ শামসুল হককে আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও কবি মনে করি। তাঁর বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, পরানের গহীন ভিতর কাব্যগ্রন্থগুলি খুবই ভালো।
ইন্টারভিউ: নির্মলেন্দু গুণের কিছু কবিতার উল্লেখ করবেন যেগুলি আপনার বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ?
আনিসুল হক: অনেক কবিতা আছে, দুঃখ করো না বাঁচো, নেই কেন সেই পাখি। প্রথমদিকের অনেক কবিতা ভালো।
ইন্টারভিউ: আপনি তো কিছু গানও লিখেছেন। যেমন : আমার বয়স হলো সাতাশ/আমার সঙ্গে মিতা পাতাস/আমি মেঘের ছোট ছেলে…। সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
 
আনিসুল হক: এটা আমার কবিতার বই থেকে নিয়ে সঞ্জীবদা গান করেছেন। গীতিকার হিসেবে আমি চেষ্টা করিনি বললেই চলে। যেমন অর্ণব আমার একটা ছড়াকে গান করেছে- শহর জুড়ে রাত্রি আসে নিয়নে, চাঁদের চিঠি ভুল ঘরে দেয় পিয়নে। এটা আমি ছাত্রাবস্থায় বুয়েট থাকতে লিখেছিলাম। কচিকাঁচার মেলায় যখন দাদাভাইয়ের কাছে এটা নিয়ে যাই, দাদাভাই আমার এই কবিতাটা পড়ে লাফিয়ে উঠেছিলেন। বসা ছিলেন, দাঁড়িয়ে বললেন, একটু আগে যদি তুমি কবিতাটা আনতে তাহলে আমার একটু সুবিধা হতো। একজন আমার সাক্ষাৎকার নিতে এসে জিজ্ঞেস করেছিলো, ছোটদের কবিতা এবং ছড়ার মধ্যে পার্থক্য কী? তোমারটা কবিতা হয়েছে।
 ইন্টারভিউ: সৈয়দ হকের ‘বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা’ নিয়ে আপনার উপলব্ধির কথা আরেকবার বলুন।
আনিসুল হক: ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’ অসাধারণ। এটি একটি বড় কবিতা বা কাহিনীকাব্য যা আত্মজৈবনিক। যে ঘোরের কথা তুমি একটু আগে বলছিলে, একজন কিশোর বা তরুণকে যখন কবিতার ঘোরে পায়, তার দিনরাতগুলি কেমন উথালপাথাল হয়। এটার বর্ণনা দেয়া বেশ জটিল। জন্মে জন্মে যেন কবি হয়ে ফিরে আসি এই বাংলায়… এটা তুমি সৈয়দ শামসুল হকের এই কবিতায় পাবে।
 ইন্টারভিউ: আপনার লেখালেখিতে তাঁর প্রভাব ও প্রেরণার বিষয়টি মিশে আছে…
আনিসুল হক: আমি অনিক রেজার পত্রিকার জন্য ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলাম। রংপুর সার্কিট হাউজে, তখন তিনি বলেছিলেন, তরুণ লেখকদের জন্য আমার তিনটি উপদেশ আছে : পড়ো, পড়ো এবং পড়ো। তিনি বলেছিলেন, আমাদের মধ্যে কজন বঙ্কিমচন্দ্র পুরোটা পড়েছে? কজন মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরোটা পড়েছে? এটা আমার জীবনের পাথেয় হয়ে আছে। সৈয়দ শামসুল হক ঐ সময় কলাম লিখতেন বিচিত্রায় ‘মার্জিনে মন্তব্য’- সেটার মধ্যে গল্পের কলকব্জা নিয়ে কাজ করেছেন, গল্প কীভাবে লেখা হয়, শব্দের প্রতি কীভাবে যত্ন নিতে হয়, ভাষা ব্যাপারটা কী? ক্রিয়ার কাল, একটা গল্প- পড়লাম, খেলাম, পড়লো, খেলো করে বলা যায়, পড়ে, খায় এভাবে বলা যায়। আবার পড়বে, খাবে এভাবেও বলা যায়। এ বিষয়গুলি সম্পর্কে আমি সৈয়দ হকের কাছে শিখেছি।
[চলবে… সাক্ষাৎকারটি মোট তিনটি পর্বে প্রকাশ হবে। যেখানে আনিসুল হকের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটকসহ তারঁ যাবতীয় সাহিত্যকর্ম এবং ব্যক্তি জীবনের কথাও উঠে আসবে। আজ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশ হলো।]
আনিসুল হক– জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৫, রংপুরের নীলফামারীতে। পিতা মরহুম মো: মোফাজ্জল হক, মাতা মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম। রংপুর পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়, রংপুর জিলা স্কুল, রংপুর কারমাইকেল কলেজ এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন তিনি। ছাত্রাবস্থা থেকেই সাহিত্য ও সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। প্রকৌশলী হিসেবে একবার যোগ দিয়েছিলেন সরকারি চাকরিতে, কিন্তু ১৫ দিনের মাথায় আবার ফিরে আসেন সাংবাদিকতা তথা লেখালেখিতেই। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার উপসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আনিসুল হক।
সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তার বিচরণ। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা, কলাম, চিত্রনাট্য, শিশুতোষ রচনাসহ নানা কিছু লিখেছেন। প্রায় ৬০টির মতো বই বেরিয়েছে। তাঁর রচিত নাল পিরান, প্রত্যাবর্তন, করিমন বেওয়া, প্রতি চুনিয়া, মেগাসিরিয়াল ৫১বর্তী প্রভৃতি টেলিভশন নাটক ব্যাপক আলোচিত এবং দর্শকনন্দিত হয়েছে। আনিসুল হকের সেরা সাহিত্য তাঁর উপন্যাস মা। এক মুক্তিযোদ্ধা মাকে নিয়ে লেখা এই উপন্যাস একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 
 আনিসুল হক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন লিংকটিতে  https://g.co/kgs/nDUYdn
———–
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গল্পকার এবং গল্পপত্র সম্পাদক মাসউদ আহমাদ

সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে সাক্ষাৎকার সাইট থেকে...