অসুখ করেছে - মৌসুমী রে

গাছেদের আজ অসুখ করেছে -
সবুজ নেই ওদের পাতা,
বিবর্ণ পাতার করুণ আর্তনাদ
শুনে তোমরা কালা?
ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি
পাও না শুনতে?
ওদের যে বড় কষ্ট
শ্বাস নিতে পারছে না,
অনেক ডেকেছে তোমাদের -
আর পারছেনা ...
গভীর অন্ধকার ওদের চোখে

কেউ শুনল না ওদের আরতি,
ওরাই যে দু'হাতে আগলেছিল,
সভ্যতার ঝড়ে অন্ধ হয়ে
উন্নতির চাকা ছাড়া কিছু দেখলে না
ওরাই যোগাত তোমাদের অক্সিজেন,
ওরাই দেয় ছায়া পথিককে
তবু লোভ আর মিথ্যে প্রগতিতে
কুঠার হেনে গেছ ওদের বুকে
রক্তাক্ত গাছ তবুও জড়িয়ে মাটি
আঁকড়ে ধরেছিল শেকড় দিয়ে -
কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ
তুলে গেছে উচ্চ অট্টালিকা,
বানিয়েছে কারখানা,
উদযাপন করেছে প্রলয়ের

চাহিদার আকাশ ছুঁতে গিয়ে
আজ হারাচ্ছে জীবন,
ক্রুদ্ধ প্রকৃতি সগর্জনে
নেমেছে আজ ধ্বংসযজ্ঞে
প্রলয়ের এই সংহারী রুপের কাছে
আমরা শিশু, চির পরাজয়ী

করোনায় লণ্ডভণ্ড সব ব্যবস্থা - মানুনূর রশিদ

করোনা নিয়েই হয় তো এক সময় চারিদিকে খুলবে সব যে যাই বলোক আর যাই হোক না কেনো, স্কুল খুলবে,কলেজ খুলবে,খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়, খুলবে সব আজ বা কাল না হয় অন্য কোন দিন। কিন্তু সবাই মুখোশে মুখ ঢেকে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে, কেমন করে চলাবে পঠন-পাঠন, তা একেবারেই স্পষ্ট কেউ নয়। এটা করা যেতে পারে আবার হতেও পারে, আপাতত ক্লাসের ছাত্রসংখ্যা কমিয়ে দিয়ে, সিলেবাসের বোঝা একটু কমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলবে, হয় তো বা পৃথিবীর নানা দেশে দেশে। এতে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং কতটা বজায় থাকবে, সে নিয়ে সন্দেহ অনেকেরই মনে আছে। একটা নতুন কার্টুন দেখছিলাম, লকডাউনের পরে বাচ্চাদের স্কুল খুলেছে, বাচ্চারা সব মুখোশ পরে ক্লাসে এসেছে, কিন্তু ক্লাসের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড সব ব্যবস্থা। কারো মাস্ক অন্য কেউ নিয়েছে পরে, আর যার মাস্ক সে দৌড়াচ্ছে তার পেছনে। কেউ তো মাস্ক দিয়ে নাক-মুখের বদলে ঢেকেছে চোখ, কারো আবার অভিযোগ, যে অন্য কেউ তার মুখোশ ‘সস্তা’ বলেছে। এটা নিছকই সোশ্যাল মিডিয়ার কৌতূক বলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ নয় কিন্তু। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় দুলতে থাকবে অদূর ভবিষ্যতের দুনিয়া। কিন্তু এ ছাড়া উপায়ই বা কি আছে? আমেরিকার মতো দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ... ধরেই নিয়েছে যে প্রথাগত ক্লাসরুমের, পড়াশুনা চালানো সম্ভব নয় ২০২০ সালে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভাবতে শুরু করেছে, ২০২১ সালটাও হয়তো এমনই যাবে। সম্বল তাই সবার স্মর্টফোট, ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট। করোনা লকডানউ থেকে পড়ানোর স্টাইলটাও যে ক্রমেই বদলে বদলে যাবে, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত গ্রাস করবে, সে বিষয়ে সন্দেহ কিন্তু কম নয়। চাই তবো শুভ মুক্তি হোক করোনা থেকে সুন্দর এই পৃথিবীর।

সেদিনটার অপেক্ষায় - মৌসুমী রে

গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বাজার করার,
বন্ধুকে জড়িয়ে ধরার,
অকারনে হেসে ওঠার,
দৌড়ে বাইরে যাবার
অপেক্ষা আর অপেক্ষা ...

ঘুরে বেড়াতে চাই বাসে, মেট্রোয়,
গ্যালোপিং ট্রেনে বসে স্টেশনে
না থেমে চলার সাক্ষী হব,
রাস্তার ধারের জামা কাপড়ের পশরায়
হঠাৎ একটু কুতূহলী দৃষ্টি দেবো ।

লাফাবো বোল্ডারের ওপর,
গাছের তলায় জিরাবো।
ঝাঁকামুটের মাথায় ঝাঁকি থাক,
টুংটাং আওয়াজে ঠেলাগাড়ি এগিয়ে যাক।

মন্দিরের গলিতে ফুল, মিষ্টি
বিক্রির ব্যস্ততা কতদিন দেখা হয়নি।
ডাবওয়ালার ডাব কাটাও
দেখা হয়নি অনেকদিন।

মাঠে আনন্দে লুটোপুটি করে
মাখবো ধুলো,
সেওপুরি খাওয়ার সময়
আবেশে চোখ বন্ধ করব।

ভিড় রাস্তায় জনঅরণ্যে
মিশে যাবো সেদিন
ভীষণভাবে অপেক্ষায় সেদিনটার ...
সেদিনটার ...।

************.************
মৌসুমী রে


কবি পরিচিতি

কবি মৌসুমী রে পৈতৃক নিবাস বার্নপুরপশ্চিম বর্ধমান। অধুনা মুম্বাইমহারাষ্ট্র নিবাসী স্থানীয় সংবাদপত্রে ফ্রিলান্স সাংবাদিক হিসেবে জীবন শুরু করে বিদ্যালয়ে অংক, অর্থনীতি এবং কম্পিউটার পড়ান কম্পিউটার প্রোগ্রামারের কাজ করেন চোদ্দ বছর। আপাতত স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে লেখার জগতের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত। ফেসবুকে লেখালেখি প্রায় দেড় বছর। নিয়মিত নানান পত্রিকায় কবির লেখা প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সংস্থা থেকে সম্মান প্রাপ্ত। বাচিক শিল্পী হিসেবেও কাজ করছেন। সখ বই পড়া, আবৃত্তি করা, রান্না করা

এই বেশ আছি - অর্পিতা ঘোষ

দুপুরের রোদে দাঁড়িয়ে বার বার ইচ্ছে হতো,
 ছুটে কাছে যেতে...
কুলকুল করে বইতো ফল্গু বুকে,
ইচ্ছে হতো, বদ্ধ পুকুর থেকে বানভাসি হয়ে সমুদ্রে মিশতে
তুমি দেখোনি সে জলের ধারা, পড়োনি মনের কথা,
অধিকারে নেওনি টেনে বাহুপাশে।

আশ্রমের সন্ন্যাসীর মতো তাকিয়ে থাকতে স্নিগ্ধ চোখে।
হেরে গিয়ে, অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করেছি কতবার...
নরম দুচোখে , কি এক অমোঘ আকর্ষণী জাদু !!
ভুলে যেতাম সব ব্যথা।
অভিশপ্ত রাতগুলো থাকতো আঁধারে ঢেকে, 
জানালায় দাঁড়িয়ে, শুন্য দৃষ্টি চলে যেত দূর আকাশে
যেখানে, চাঁদ আর জ্যোৎস্না একাকার মিলেমিশে
কত সুখি ওরা, ভালোবাসার আলো ছড়ায় চারিদিকে।
বেলা গড়িয়ে আসে বিকেলের তটে
চৌকাঠ এখনো গন্ডি টেনে বসে,
নেই কোনো শোক, এই আছি বেশ!
মাঝির দেখা নেই,
নদীর ওপারে যাবো, 
নেবোনা সাথে কোনো দ্বেষ !!

---------------*---------------
অর্পিতা ঘোষ


লেখিকা পরিচিতি:--
অর্পিতা ঘোষের জন্ম নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর শহরে, বসবাস ও করে কৃষ্ণনগরে ।ছোট থেকেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ। স্কুলে পড়াশোনা করার পাশাপাশি লেখার ও ঝোঁক ছিল, ছোট থেকেই গল্প কবিতা লেখে,ও ছোটোদের গল্প  ছড়া লেখে। বিভিন্ন কাব্য গ্রন্থে , বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকাই , মাসিক পত্রিকায় ও দৈনিক খবরের কাগজে অনেক লেখা প্রকাশিত , বাংলাদেশের পত্রিকা ও দৈনিক কাগজে ও লেখা প্রকাশিত ।

মানুষ খুঁজি - অঞ্জনা চক্রবর্তী

'মন'  আছে  কি  তোমার? 
বিচ্ছিন্ন  পৃথিবীতে 
টবের  গাছ  মুখ  থুবড়ে  পরে।
 একাকিত্ব  কান্নায় 
সেও  খোঁজে  মন ... ভালো  একটা  মন।
যত্ন  চাই  নরম  হাতের  স্পর্শ 
জল  মাটি  আদর  দিলেই  তবে  পাবে  ফুলের  গন্ধ।
মানুষ , আছে  কি  তোমার  একটু  সময়  
প্রেমে  পড়ার? 
প্রেমে  তো  পড়া  নয়, প্রেমে যে উন্মুক্ত  সোপানে 
চরৈবেতি  আনন্দে, উর্দ্ধগামী  মানবতায় 
সোহাগ  সান্নিধ্যে  সহযাত্রী  হয়।
সে প্রেম  নয় , শুধু  যৌনতায়,  শরীর  পেতে  চায় 
সেখানে  মানব  দানব  হয় 
ফুল  ধর্ষিত  অহরহ এমন  সভ্যতায়... 
প্রেমে  ব্যথা  জাগায়... মানুষ  যে  আর  মানুষ  নয় 
হিংস্রতায় , কামুক  মনস্তত্ত্বের তকমাতে
ফুলের  টব  ভেঙে  চৌচির, ফুল  প্রাণ  হারায় । 
 
মানুষ  খুঁজি আমি .... আছে  কি  মন? 
না  দৌহিক  চাহিদা  সর্বক্ষণ !
সুন্দর  দৃষ্টি, অনবদ্য  সৃষ্টি , কথোপকথনে  কৃষ্টি 
প্রেম  জাগায়  মনে , প্রেম  পরিস্ফুটিত ঐ  টবের  গাছে।
 
অঞ্জনা  চক্রবর্তী
 
 
কবি পরিচয় :  অঞ্জনা  চক্রবর্তী  লিখছেন  সেই  শৈশব  কাল  থেকে  |ছোটবেলা  থেকেই  সাহিত্য  চর্চার  প্রতি  তাঁর  অদম্য  আগ্রহ |পেয়েছেন উৎসাহ বাবা  মা , স্বামী , সেন্ট জেভিয়ার্স  স্কুলের  শিক্ষিকা  বিনীতা  দত্ত , হামাগুড়ির  বন্ধুর  স্ত্রী  ইউনিভার্সিটিতে  কর্মরতা  অনুরাধা  সরকার , আর  পাঠক  কুলের কাছ  থেকে |ইংরেজি  সাহিত্যর  মাস্টার ডিগ্রী  আর চিরকাল  ইংরেজি মাধ্যমের  পড়াশোনা ও কর্ম জীবন  কাটিয়েও  বাংলা  সাহিত্যের  প্রতি  দুর্বলতা  আর গোপন  নেই |পুরাতন  ঘটনা  থেকে  শুরু করে বর্তমান  কালের  গতি  প্রকৃতি সব  কিছুর  ছাপ  পাওয়া  যায় তাঁর  কবিতায় |
পড়ুন  ভালো  লাগবে। ধন্যবাদ। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

অচেনা শহর - বিনিতা দত্ত



আজ আমার এই শহর কে
পারিনা কেন চিনতে
রাস্তা গুলো অবাক চোখে
জেগে আছে নীরবতার মাঝে
বন্দী হয়েছে জীবন আজ
চার দেয়ালের ওপ্রান্তে
স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ কোথায়
যেন গেল হারিয়ে
ছন্দপতন আজ সবকিছুতেই
কি করে বোঝাই মনকে
অসহায় জীবন মাঝপথে হঠাৎ
কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে।

আমি বসে একাকী ভাবি সেই
প্রাণচঞ্চল শহরের ইতিকথা
যে যার মত বাঁচার লড়াই
করছিল প্রানপন
আজ শুধু আশার আলো
খুঁজি ভুলে সব ব্যথা
হারিয়ে যাচ্ছে শব্দগুলো
শুন্যতার মাঝে বার বার
ভয় ভয় সাজিয়েছি কালো
অক্ষর দিয়ে মনের ক্যানভাসে
কেমন অগোছালো লাগছে
ভাবনা গুলো আমার।

স্কুল জীবন কেমন থমকে
গেছে নেই কোন তাড়া
শৈশব নিয়ে অস্থির মনগুলো
রয়েছে গৃহবন্দী
অভাবের সংসারে নেমে এলো
অন্ধকার হোলো না কিছুই সারা
বড় অচেনা লাগে জীবনের
এই নতুন সাজ
বোবা কান্না গিলে খায় তোমার
আমার সোনালী স্বপ্নগুলো
তাইতো খুঁজি বার বার আমার
সেই চেনা শহরের কোল্যাজ ।।

" কবি পরিচিতি "

বিনিতা দত্ত জন্মস্থান কোলকাতায়, তবে শিক্ষা ও মানুষ হওয়া পাটনায় ( হিন্দি ভাষী রাজ্য বিহারের রাজধানী )
ছোট থেকে সাহিত্যানুরাগী ছিলাম, তবে ভাবনা গুলো বাংলায় নয় বরং হিন্দি ও ইংরেজিতেই আসতো কারণ বাংলা শিক্ষা পাঠের কোন সুযোগ ছিলোনা আমার। মাতৃভাষা বলেই হয়তো মনের মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসা অন্তরে থেকেই গিয়েছিল। বর্তমানে আমি পশ্চিম বাংলার অধুনা বর্ধমান জেলায় দীর্ঘ চল্লিশ বছরের কাছাকাছি বাস করছি। আমি একজন অবসর প্রাপ্ত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা এবং সেখানেও ইংরেজিতেই শিক্ষকতা করেছি। আমি বেশ কিছুদিন কোলকাতার আকাশবাণী থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করি। বর্তমানে সাহিত্য চর্চা নিয়ে আছি। কোনদিন ভাবিনি বাংলা সাহিত্য নিয়ে এরকম চর্চা করার সুযোগ পাবো ।মাতৃভাষার চর্চা বাড়িতেই করেছি এবং ভালোবাসি বলেই আজ লেখালিখির জগতে একটু থাকার চেষ্টা। ধন্যবাদ! সবার জন্য শুভ কামনা।