সুন্দর ব্যক্তিত্বের জন্য করণীয় ১০টি মূল্যবান উপায়

সবাই চায় যে আমি একজন ভালো মানুষ হবো , সবাই আমাকে মান্য করবে , আমি সমাজের বুকে একজন নজরকাড়া শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হব । কিন্তু এটা অনেকেই ভাবে না যে কিভাবে এটা হওয়া সম্ভব ?
তুমি যে রকম রূপচর্চা করে সুন্দর হতে সচেষ্ট, ঠিক একই ভাবে যদি নিজের ব্যক্তিত্বকে ঘষা মাজা করো তাহলে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে উজ্বল করতে পারো । মানুষ কখনো তার নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না অথবা বাবা-মায়ের যে ব্যক্তিত্ব — তা থেকে সরাসরি ব্যক্তিত্বের অধিকারি হয় না , — ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে হয় । তাহলে একথা পরিস্কার যে ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা কিংবা আপডেট করা সম্ভব।এসব জেনে নিই সুন্দর ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার  ১০ টি কার্যকরী উপায় :- 

(১) মানুষকে কথা দিয়ে কথা রাখার চেষ্টা করো :- 
কাউকে কথা বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটা রাখার চেষ্টা করো । তুমি একজনকে কথা দিলে বা ভরসা দিলে যে , তোমায় কাজটা আমি করে দেব বা তোমার কাজে সাহায্য করবো কিন্তু তুমি যদি তার কথা না রাখতে পারো , তাহলে তোমার প্রতি যে সেই লোকটার বিশ্বাস ছিলো সেটা হারিয়ে যাবে । আর যদি তুমি তোমার কথাকে রাখতে পারো এবং তাকে সাহায্য করো তাহলে দেখবে যে তুমি তার চোখে আরো বেশি বিশ্বাসী একজন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে গেছো । ব্যাস এতটুকু ; অনেক বড় কিছু না এটুকু করতে পারলেই তুমি সবার থেকে আলাদা হবে ।
10 ways to inprove your personality - preronajibon
(২) সময়ের মূল্য দিতে শেখো :-
সময়ের মূল্য দিতে শেখো । সময় , বহতা নদীর স্রোত আর যৌবন কখনো ফিরে আসে না ‘একবার গ্যয়া তো গ্যয়া ‘ । কাউকে তুমি সময় দিলে যে কাল সকাল দশটায় আমার সাথে দেখা করবে অথবা দশটায় একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ উপস্থিত থাকবে, কিন্তু সেখানে সময়মত পৌঁছতে পারলে না বা ইচ্ছাকৃত ভাবে পৌঁছালে না , তাহলে মানুষ তোমার উপর আস্তে আস্তে ভরসা করা ছেড়ে দেবে । আর তুমি যদি সময়ের সঠিক মুল্য দিতে পারো তাহলে সবাই তোমাকে সঠিক মূল্য দেবে। তুমি অবশ্যই সবার চোখে আলাদা হবে ।
(৩) মানুষের কথা শোনো ও পাশে দাঁড়াও , সাহায্য করো :-
সবাই শুধু বলতে চায় , শুনতে কেউ-ই চায় না । তুমি একটু উল্টো হও আগে সামনের ব্যক্তির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো , বোঝো , তারপর সুযোগ বুঝে সময় মতো তোমার কিছু বলার থাকলে কিছু বলো , দেখবে তুমি নিজের অজান্তেই কখন তার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছো ।
মানুষ বিপদে পড়লে মানুষের পাশে দাঁড়াও , তাদের যতটা পারো সাহায্য করো , দেখবে সেও উপকৃত হবে আর তোমারো ভালো লাগবে । সেইসঙ্গে তোমার ব্যক্তিত্বেরও বিকাশ ঘটবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ।
(৪) নিজের রাগ অর্থাৎ ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখো:-
আমরা রাগের মাথায় এমন কতগুলো কাজ করে ফেলি , এবং পরে ভাবি যে , সেগুলো আমার একান্তই করা উচিত হয়নি , যা আমাদের ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একদম অনুকূল নয় । কথায় আছে যে ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না ‘ । জানি মানুষের জীবনে এমন কতগুলো ঘটনা আসে যেখানে নিজেকে কন্ট্রোল করা মুশকিল , কিন্তু একেবারে যে অসম্ভব সেটা কিন্তু নয় । যে যত নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সে ততই অগ্রগতির দিকে যাবে ও সুব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে ।
(৫) ছোট বড় সবাইকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া :-
ছোটোদের ভালোবাসতে শেখো ও বড়দের শ্রদ্ধা করতে শেখো, কেননা ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা , শ্রদ্ধার বদলে শ্রদ্ধা পাওয়া যায় । তুমি যদি সবাইকে ভালোবাসো শ্রদ্ধা ভরা দৃষ্টিতে দেখো তাহলে সমাজ তোমাকে শ্রদ্ধা ভরা দৃষ্টিতেই দেখবে । আর এটা সুন্দর ব্যক্তিত্বের একটা লক্ষণ।
(৬) অলসতা বর্জন করো পরিশ্রমী হও :-
অলসতা মানুষকে পিছনের দিকে টানে , মহাপুরুষ বলেছেন ‘ আরাম হারাম হ্যায় ‘ । জীবনের সফলতা অর্জন করতে হলে তোমাকে অবশ্যই অলসতা কে বর্জন করে পরিশ্রমী হতে হবে ।
(৭) অন্যের প্রশংসা করতে শেখো :-
আমরা সবসময় মানুষের দোষ খুঁজে বেড়াই , সুযোগ পেলেই অভিযোগ আর সমালোচনা করতে ছাড়ি না । কিন্তু মনের রাখবে অভিযোগ বা সমালোচনা করে নিজেকে মহান ও সামনের ব্যক্তির পথপ্রদর্শক মনে হবে , কিন্তু সামনের ব্যক্তি তোমাকে মুখে কিছু না বললেও মনে মনে তোমার প্রতি এক বিরূপ ধারণা তৈরি করবে । তোমাকে অপছন্দ করতে শুরু করবে । কিন্তু যদি তুমি তার প্রশংসা করো, তার সামনে কখন তুমি তার প্রিয় ব্যক্তি ও তার অভিভাবক হয়ে গেছো তুমি নিজেই টের পাবে না । তাই প্রাণ খুলে অন্যের প্রশংসা করো ।
(৮) সত্যি কথা বলো :-
যদি তুমি একজন আদর্শবান সুব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে চাও তাহলে তোমাকে অবশ্যই সত্যবাদী হতে হবে । তুমি যদি ভুলে কোনো অন্যায় কাজও করে থাকো তাহলে তোমাকে মিথ্যের আশ্রয় না নিয়ে সত্যি বলতে হবে । মনে করো তুমি তোমার বন্ধুর কাছে কিছু লুকোচ্ছ , মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছ কিন্তু সেটা না করে যদি তুমি তাকে সাহস করে সত্যিটা বলতে পারো তাহলে দেখবে তোমার নিজেকে অনেকটাই হালকা লাগবে , আর বন্ধুও তোমাকে ক্ষমা করে দেবে । সাথে সাথে তোমার প্রতি তোমার বন্ধুর বিশ্বাস কমার চেয়ে আরো দ্বিগুন হবে ।
(৯) পোশাকের শালীনতা বজায় রাখো :-
সবার মাঝখানে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে নেই । কেননা সামনে খুব অপটুডেট পোশাকে নিজেকে সবার নজরে ভালই স্মার্ট মনে হলেও , মনে রাখবে পোশাক তোমার ব্যক্তিত্বকেই ফুটিয়ে তুলবে । তাই কয়েকটি কথা মনে রেখো :
(ক) পোশাক হবে স্থান কাল পাত্র মাথায় রেখে ।
(খ) পোশাক হবে মার্জিত রুচির , যাতে শালীনতা বজায় থাকে ।
(গ) গায়ে মানায় বা ভালো ফিট হয় এমন পোশাক পরো।
(ঘ) পোশাক যেন কখনোই তোমাকে ছাড়িয়ে বড় না হয়ে যায় । কেননা পোশাকের কাজ তোমাকেই ফুটিয়ে তোলা, তা যেন তোমার চেহেরাকে ম্লান না করে দেয় ।
(ঙ) পোশাকে অতিরিক্ত স্মার্টনেস দেখাতে যেও না ।

(১০) সুন্দর কথা বলো :-
কথাই মানুষের ব্যবহারকে প্রকাশ করে । তাই যে কোনো স্থানে অনেক মানুষের বা ভিড়ের মাঝে তোমার কথা বলার স্টাইল , শব্দ চয়ন , eye contact ইত্যাদির উপর তোমার ব্যক্তিত্ব নির্ভর করবে । এই ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন । সেগুলি যেমন :
(ক) সামনের জনের সঙ্গে eye contact করে কথা বলো । এতে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

(খ) আঞ্চলিক উচ্চারণ ত্যাগ করো , কারণ এতে সবার কাছে গ্রহণ যোগ্যতা বাড়বে।

(গ) সহজ ও সুন্দর শব্দ চয়ন করো । এতে সামনের মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট হবে ।

(ঘ) কথা বলার সময় হাসিখুশি ভাব বজায় রাখো।

(ঙ) ঘনিষ্ঠ কাউকে ছাড়া নিজের সমস্যার কথা অপরকে বলতে যেও না ।

(চ) কথায় রসবোধ থাকে যেন , সেই সঙ্গে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রেখো । কারণ নিজের ভাষাকে শ্রদ্ধা না করতে পারলে , অপরের ভাষা বা সংষ্কৃতিকেও শ্রদ্ধা করতে পারবে না ।
এইভাবে এই কয়েকটি করণীয় বিষয় যদি অভ্যাস করতে পারো — তবে তুমিই হয়ে উঠতে পারো সুন্দর ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারি। ভালো থেকো বন্ধুরা । আরো কিছু জানতে হলে কমেন্ট বক্স এ লিখে ফেলো চট করে ।

সূত্র: অনলাইন থেকে নেওয়া....

আমি যে বেসেছি ভালো এই জগতেরে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি যে বেসেছি ভালো এই জগতেরে;
          পাকে পাকে ফেরে ফেরে
        আমার জীবন দিয়ে জড়ায়েছি এরে;
              প্রভাত-সন্ধ্যার
              আলো-অন্ধকার
          মোর চেতনায় গেছে ভেসে;
               অবশেষে
     এক হয়ে গেছে আজ আমার জীবন
          আর আমার ভুবন।
     ভালোবাসিয়াছি এই জগতের আলো
          জীবনেরে তাই বাসি ভালো।
 
     তবুও মরিতে হবে এও সত্য জানি।
              মোর বাণী
     একদিন এ-বাতাসে ফুটিবে না,
     মোর আঁখি এ-আলোকে লুটিবে না,
              মোর হিয়া ছুটিবে না
              অরুণের উদ্দীপ্ত আহ্বানে;
                       মোর কানে কানে
          রজনী কবে না তার রহস্যবারতা,
     শেষ করে যেতে হবে শেষ দৃষ্টি, মোর শেষ কথা।
 
              এমন একান্ত করে চাওয়া
                    এও সত্য যত
              এমন একান্ত ছেড়ে যাওয়া
                    সেও সেই মতো।
     এ দুয়ের মাঝে তবু কোনোখানে আছে কোনো মিল;
                            নহিলে নিখিল
                    এতবড়ো নিদারুণ প্রবঞ্চনা
     হাসিমুখে এতকাল কিছুতে বহিতে পারিত না।
                            সব তার আলো
     কীটে-কাটা পুষ্পসম এতদিনে হয়ে যেত কালো।
 
 
  সুরুল, ২৯ পৌষ, ১৩২১-প্রাতঃকাল

উত্তর - শামসুর রাহমান

তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো
‘এই আকাশ আমার’
কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা।

সন্ধ্যেবেলা ক্যামেলিয়া হাতে নিয়ে বলতেই পারো,
‘ফুল তুই আমার’
তবু ফুল থাকবে নীরব নিজের সৌরভে আচ্ছন্ন হয়ে।

জ্যোত্স্না লুটিয়ে পড়লে তোমার ঘরে,
তোমার বলার অধিকার আছে, ‘এ জ্যোত্স্না আমার’
কিন্তু চাঁদিনী থাকবে নিরুত্তর।

মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে
যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’, কী করে থাকবো নির্বাক ?
তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’।

বাইবেলের কালো অক্ষরগুলো - শামসুর রাহমান

জো, তুমি আমাকে চিনবে না। আমি তোমারই মতো
একজন কালো মানুষ গলার সবচেয়ে
উঁচু পর্দায় গাইছি সেতুবন্ধের গান, যে গানে
তোমার দিলখোলা সুরও লাগছে।

জো, যখন ওরা তোমার চামড়ায় জ্বালা-ধরানো
সপাং সপাং চাবুক মারে আর
হো হো করে হেসে ওঠে,
যখন ওরা বুটজুতোমোড়া পায়ে মারে তোমাকে,
তখন ধূলায় মুখ থুবড়ে পড়ে মানবতা।
জো, যখন ওরা তোমাকে
হাত পা বেঁধে নির্জন রাস্তায় গার্বেজ ক্যানের পাশে
ফেলে রাখে, তখন ক্ষ্যাপাটে অন্ধকারে
ভবিষ্যৎ কাতরাতে থাকে
গা' ঝাড়া দিয়ে ওঠার জন্যে।
যদিও আমি তোমাকে কখনো দেখিনি জো,
তবু বাইবেলের কালো অক্ষরের মতো তোমার দুফোঁটা চোখ
তোমার বেদনার্ত মুখ বারংবার
ভেসে ওঠে আমার হৃদয়ে, তোমার বেদনা
এশিয়া, আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকায় ব্যাপ্ত, জো।

কোনো একজনের জন্যে - শামসুর রাহমান

এতকাল ছিলাম একা আর ব্যথিত,
আহত পশুর অনুভবে ছেঁড়াখোঁড়া।
দুর্গন্ধ-ভরা গুহাহিত রাত নিস্ফল ক্রোধে দীর্ণ,
শীর্ণ হাহাকার ছাড়া গান ছিল না মনে,
জানি প্রাণে ছিল না সতেজ পাতার কানাকানি
এমনকি মরম্নভূমির তীব্রতাও ছিল না ধমনীতে,
স্বপ্ন ছিল না,
ছিল না স্বপ্নের মতো হৃদয়।

কে জানতো এই খেয়ালি পতঙ্গ, শীতের ভোর,
হাওয়ায় হাওয়ায় মর্মরিত গাছ,
ঘাসে-ঢাকা জমি, ছায়া-মাখা শালিক
প্রিয় গানের কলি হয়ে গুঞ্জরিত হবে
ধমনীতে, পেখম মেলবে নানা রঙের মুহূর্তে।
কে জানতো লেখার টেবিলে রাখা বাসি রম্নটি
আর ফলের শুকনো খোসাগুলো
তাকাবে আমার দিকে অপলক
আত্মীয়ের মতো?

আসাদের শার্ট - শামসুর রাহমান

গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায় ।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়
বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে ।

ডালীম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর- শেভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট
শহরের প্রধান সড়কে
কারখানার চিমনি-চূড়োয়
গমগমে এভেন্যুর আনাচে কানাচে
উড়ছে, উড়ছে অবিরাম
আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায় ।

আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা ।

ভালোবাসা

ভালোবাসা একটি শব্দ একটি স্বপ্ন
যে শব্দের চোরাবালিতে স্বপ্ন হারায়।
ভালোবাসা হৃদয় থেকে হৃদয়ান্তরে
স্নিগ্ধ ফুলে সুবাস মাখে, আবেশে রাখে।
কখনো সে দর্পনে মুখ অনিন্দ্য সুখ
দু’জনের মিলন পথে বিরহ দুখ।
দীপ্তি তার পঙ্খীরাজের পাখায় ভাসে
গ্রহ থেকে গ্রহান্তরের আলোয় হাসে।
ভালোবাসা সে যেন এক অচিন সুখ
বুঝে নেয় মন শাখার ভাবনাটুক,
চোখ দেখে, বুকের মাঝে গন্ধ শুঁকেই
দিগন্তের ভাবনাহীন রেখা এঁকেই।
বুকের সে, প্রণয় ছিল তারই জন্য
দুরুদুরু বুক ঘরে নির্জন অরণ্য।
অরণ্যের একাকী পথে, হেঁটেছি সাথে
তুমি-আমি নিস্তব্ধতার সে গতিপথে।
সেই পথে কতই না আনন্দ ভ্রমণ
সুখস্মৃতি এ্যালবামে সাজানো যতন।
দূর্বা ঢাকা সবুজ মাঠে গল্প কথায়
চোখে চোখ চুড়ির শব্দ মন সীমায়।
স্পর্শ যাদু দেহ জাগায়, মন জাগায়
আহা! সেই সুখ বন্যায় কত সময়!
আত্মহারা যৌবন স্বপ্ন সৌধ চূড়ায়
তারপর স্বপ্নভঙ্গের ব্যথা জ্বালায়।
তবু, তবু, সে ভালোবাসা সব জীবনে
ফিরেফিরে আসুক না, জন্ম জন্মান্তরে।
পার হোক রাতের পর রাত নির্ঘুম
তারাময় আকাশ নীড়ে উদাসী চোখে।।

কবি - কামরান চৌধুরী 


প্রেম !

প্রেম সে সুন্দর অন্তরে অন্তরে,
এর চেয়ে আনন্দের কিছু নাইরে।
ঘরে বসে মনোযোগী তোমার জন্য,
প্রেমের কথাতে মন যে আমার ধণ্য।
দুটি মন থাকে যদি এক সাথে,
জীবন কত সুন্দর হবে তাতে।
পাশাপাশি বিপরীত দৃশ্য পাই,
প্রেমের অধিকার অনেকের নাই।
অনেকে প্রেমহিন অসহায় একা পথ চলছে,
অসাধু প্রেমিক/প্রেমিকা কত মতলব আটছে।
অন্তর পুড়ে,হৃদয় ভেঙ্গে যায়,
প্রেমিক মন আজ কত অসহায়।
কষ্টে নষ্টে সংঘাতে ঢেলেদেয় মন,
একেই কি বলে প্রেমিক জীবন???

কবি - মামুনূর রশিদ 


 

" বিষকন্যা "


আমি আজ আর সেই আমি নেই
হারিয়ে গেছে আমার আমিত্ব
এক অজানা ভিড়ের মাঝে
কেন জানিনা বার বার বিবেকের
দরজায় করেছি করাঘাত।
নিজের মুখোমুখি হয়েছি নিজেকে
বোঝার অছিলায়
দুহাত বাড়িয়ে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি
হারিয়ে যাওয়া নিজের পরিচয়কে
আমি সেই বিষকন্যা যার ছায়াতেও
বিষের গন্ধ ওঠে।
ভিড় করেছে সহস্র ক্ষুধার্ত চোখ
তাদের চোখ এড়িয়ে বাঁচা কঠিন এক
অদ্ভুত ছোঁয়াচে রোগ
বিষমুক্ত হওয়া বোধহয় আর হলোনা
কন্যার
হায়েনার থাবায় পিষ্ট হতে চায়নি কন্যার
সম্ভ্রম, মর্যাদা।
অসহায় দেহ ভিজে গেছে বিষের ধারায়
বাঁচাতে পারেনি নীল হয়ে যাওয়া নিথর
দেহ ও মন তার
মুক্তির আহ্বান চেয়ে চেয়ে ক্লান্ত মন খুঁজে
পায়না বাঁচার পথ।
পৃথিবীটা বিষাক্ত কেন আজ ?
নীলকণ্ঠের মত সব বিষ পান করে নিক
প্রাণ ভরে মুক্ত বাতাসের মাঝে খুঁজে নিক
সহজ, সরল মনের মত কিছু মানুষ
অতীত ভুলে বর্তমান যেন সর্বগ্রাসী না হয়।

কবি -  বিনিতা দত্ত  

ওহে প্রিয়া !

ওহে প্রিয়া ..!
মামুনূর রশিদ 
============
 ওহে প্রিয়া ..!
কারে তুমি আপন ভাবো?
কারে ভাবো পর?
কষ্টিপাথরে যাচাই করা
ভালোবাসা মিথ্যার কাছে পর।
ওহে প্রিয়া...!
কারে তুমি বিশ্বাস করো?
কারে ভাবো সত্যবাদী ?
বর্তমানে চারপাশে মিথ্যার ছড়াছড়ি
টাকার কাছে বিক্রি হয় মনুষ্যত্ব।
ওহে প্রিয়া...!
কারে তুমি ভালো ভাবো?
কারে ভাবো মন্দ?
প্রেমের রাজ্যে বিলাসিতার ঢ্ল,
বোঝবে কি করে কে ভালো কে মন্দ।
ওহে প্রিয়া...!
কারে তুমি ভাগ্য বলো?
কারে বলো দূর্ভাগ্য ?
পাপপুণ্যের মাপকাঠিতে---
কাঁপছে গোটা প্রেমিক বিশ্ব !
কবি- মামুনূর রশিদ 
মামুনূর রশিদ