পৃথিবীর অসুখ - বিনিতা দত্ত

বিনিতা দত্ত
 
হঠাৎ যেন থমকে গেল জীবন
বন্দী হয়েছে এক নিমেষে
শব্দগুলো হারিয়ে গেছে
স্তব্ধ আকাশ দিনের শেষে।
চঞ্চল রাজপথ আজ একাকী
মন নিয়ে খোলা আকাশের নীচে
হৃৎপিণ্ডের শব্দ জোরালো হয়ে ধরা
দিয়েছে মনের আনাচে কানাচে ।
অশনি সঙ্কেত আজ পৃথিবী
ঘিরে গ্রাস করেছে মৃত্যুমিছিল
গৃহবন্দী আজ মানব জাতি
কৃতকর্মের ফলে থমকে গতিশীল।
মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিতে
নির্বাসনই এক মাত্র উপায়
নিজেরে নতুন রূপে খোঁজা
ধৈর্য ও নতুনের আশায়।
লোভ, লালসা, ক্ষমতা আজ
হয়েছে পতনের কারণ
ধ্বংস স্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে
আত্মহারা এযুগের রাবণ।
সমগ্র মানবজাতি এক হয়ে
নীরব যুদ্ধে দেখবো জয়ের পতাকা
শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে শত্রু বিনাশ করে
ঘুরবে সেদিন চাকা ।।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং চাকুরীর জন্য ট্রান্সফোর্টেশন ইঞ্জিনয়ারিং এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নত্তর

ট্রান্সফোর্টেশন ইঞ্জিনয়ারিং

১. কর প্রাপ্তি অনুয়ায়ী বন্দর কত প্রকার
★ ২ প্রকার।
২. প্রোতাশ্রয়ের যে অংশে মালামাল উঠানামা এবং সংযোগের
সুবিধা থাকে তাকে কি বলে?
★ মেরিন টার্মিনাল
৩.যে বন্দরের বিশেষ এলাকায় কোন শুল্ক দিতে
হয় না তাকে কি বলে?
★ মুক্ত বন্দর
৪. বাণিজ্যিক প্রোতাশ্রয় কত প্রকার?
★ ২ প্রকার
৬.নৌবাহিনীর জন্য নির্মিতব্য প্রোতাশ্রয় কে বলে?
★ মিলিটারি প্রোতাশ্রয়
৭. বাংলাদেশের প্রোতাশ্রয়ে গুলো কি কি?
★ চট্টগ্রাম ও মংলা
৮. রেলগেজ ব্যাবহার করার উদ্দেশ্য কি?
★ রেল গেজ যাচাই করা
৯. স্লিপারকে উপরে উঠানোর কাজে ব্যাবহৃত হয়..?
★ স্লিপার টং
১০. স্লিপারের নিচে ব্যালাস্ট প্রবেশ করানোর জন্য ব্যাবহৃত হয়?
★বিটার কামপিক অ্যাক্স
১১. ক্যান্ট বা সুপার এলিভেশনের জন্য ব্যাবহৃত হয়?
★ক্যান্ট বোর্ড
১২. ফিসবোল্ট টাইট বা লুজ করার জন্য ব্যাবহৃত হয়..
★ স্প্যানার
১৩. রেলকে সোজা ও বাঁকানোর কাজে ব্যাবহৃত হয়.
★ জিম ক্রু
১৪. স্পাইক বসানোর জন্য ছিদ্র করা হয়?
★ অগার
১৫. সড়ক রেলের সমতা যাচাই করা হয়?
★ স্পিরিট ল্যাভেল
১৬. স্লিপার নড়াচড়া রোধে স্লিপারের চারপাশে ব্যালাস্ট
ছড়িয়ে দেয়াকে বলা হয়?
★ বক্সিং
১৭. PWI বলতে বুঝায়?
★ Permanent Way Inspector
১৮. স্থায়ী সড়কে ত্রুটি কয়টি?
★৩টি
১৯. সার্ভিস লাইফের উপর ভিত্তি করে ব্রিজ কত প্রকার?
★ ৩ প্রকার
২০. সুপার স্ট্রাকচারের উপর ভিত্তি করে ব্রিজ কত প্রকার?
★ ২ প্রকার

অনাহারী - মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)

তোমরা যারা ঘরে বসে
করছো ভূঁরি ভোঁজ,
দিন মজুরের জীবন চলা
নিয়েছো কি খোঁজ।
ওদের এখন নেইতো কামাই
ওদের ঘরে শূন্য হাঁড়ি,
ক্ষিদের জ্বালায় জ্বলছে ওরা
থাকবে ক'দিন অনাহারী?
স্যাঁতস্যাঁতে ঘর বস্তিবাসী
জীবন বড় দুঃসহ,
ক্ষুধার জ্বালা মিটলে খুশী
আর কিছুতে নাই মোহ্।
দিন মজুরের দু'হাত এখন
অলস পড়ে থাকে,
কাজ কর্ম নেই যে এখন
কেউই না ওদের ডাকে।
গরীব দুঃখী যারা আছে
ওদের ঘরে ঘরে,
দিনাতিপাত করছে ওরা
কষ্ট ক্লেশ করে।
৩০/০৩/২০২০ ইং।
মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)
 

যদি বেঁচে থাকি ।। কামরান চৌধুরী

যদি বেঁচে থাকি,
তবে, আবারও দেখা হবে
পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ মাখা যাবে
অমৃতের স্বাদ নেবো সকলেই মিলে।
চারদিকে মৃত্যুর ইশারা
বেড়িয়ে যেওনা ঘর ছেড়ে কোনো ফাঁকে।
আলেয়ার হাতছানি সেথা
মনকে বোঝাও, সান্তনা দাও, ধৈর্য্ ধর
নিজের মাঝে নিজেই প্রতিরোধ গড়।
যদি বেঁচে থাকি
আবার যাবো তোমাদেরই কাছে
সাগর-পাহাড়, বিপনি বিতানে;
চেনা পথ, অচেনা শহর, অচেনা মানুষ খুশিতে বরণে।
ব্রহ্মপুত্র তীরে যাবো
বনজ্যোস্নায় নিরবতার শব্দ নেবো
দেখবো দু’জনে তারার মিলন।
ফাগুন হাওয়ায় ভাসবে তরী
হারাবে তখন কালের ঘড়ি।
যদি বেঁচে থাকি,
তবে আবার দেখা হবে।
প্রিয় সুখ উন্মাদনায় ভাসা যাবে।
বাঁশির সুরে ঘুম পাড়াবো-ভাঙাবো-ভাবাবো
ভালোবাসায় অঙ্গ ভরাবো।
বিকেলের ঝিরঝিরে বায়ু মাখবো দু’জন
দিগন্তের রঙিন আলোয় রাঙাবো জীবন।
যদি না বাঁচি, ধন-মান বিলিয়ে দেবো,
গচ্ছিত রেখে যাবো তোমার কাছে।
সুন্দর এ পৃথিবীর যা কিছু হয়নি দেখা
তোমার চোখে, আমার হয়ে দেখে নিও।
যদি বেঁচে থাকি, তবে, আবার দেখা হবে
অনন্তর পাশাপাশি চলা হবে ।।
৩০.৩.২০২০ ।। শ্যামলী, ঢাকা।।

বঙ্গবন্ধু

  
বঙ্গবন্ধু -
হাবিবুর রহমান সোহাগ -
তুমি যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান
কৃতি তোমায় করেছে মহিয়ান,
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে
জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান।
পাকিস্তানি হায়েনা যখন বাংলাকে ধরল ঘিরে
তুমি তখন মুক্তির পথে,পেছনে চাওনি ফিরে,
"এবারের সংগ্রাম,মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম,স্বাধীনতার সংগ্রাম"
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কবিতার লাইন দুটি
উচ্চারণের সাথে সাথে,
উচ্ছ্বাস,আনন্দে,অধিকারের জন্যে
যুদ্ধে নামে তোমার ডাকে,
যুদ্ধ হল জয়
তোমার বাংলা স্বাধীন হল
আর নাই তো ভয়।
হে বঙ্গবন্ধু,সহস্র বছরের শ্রেষ্ঠ সম্মান
কুড়িয়ে এনেছে তোমার জন্য,
তাঁতী,কুমার,জেলে,কৃষক,শ্রমিক,জনতা
নিপীড়িত,বঞ্চিত,গরিব,দুঃখি মানুষজন
সকলের প্রতি ছিল তোমার সমান মন।
তুমি নেই,তোমার শূন্যতা আর পূরণ হবার নয়
তুমি আসবে না কখনো,
এই মৃত্যুময় পৃথিবীতে
চিরভাস্বর থাকবে তুমি বাংলার মনো মাঝে।
তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী,তোমার মৃত্যু নাই
সারা বাঙ্গালীর হৃদয়ে তোমার ঠাঁই।
যতদিন বহমান রবে
পদ্মা,মেঘনা,যমুনা,বক্ষ্মপুত্র নদী,
ততদিন তোমার স্মৃতি অম্লান থাকবে
হে বঙ্গবন্ধু,হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি,
জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান।

কবি- হাবিবুর রহমান সোহাগ

 

একটি ছবির আত্মকাহিনি


মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল আমি তখন খুব ছোট
মাত্র আড়াই বছর বয়স, সবে মাত্র হাঁটা শিখেছি।
বাবা-মার হাত ধেের আলতো ছোঁয়ায় হেঁটে চলি,
মুখে জয় বাংলা স্লোগান  তুলি।
বড় বোন ভাইয়ের কোলে চড়ে পাড়াময় বেড়াই ঘুরে;
তাঁদের মুখেই দেশের মহান নেতা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম শুনেছি
সেই থেকে তাঁর ছবিটি বুকে আঁকা।

জীবনে দু’বার রাস্তার পাশে জনস্রোতের মাঝে থেকে
তাকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।
গাড়িতে হাত নেড়ে নেড়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে
সকলকে অভিনন্দনের উত্তর দিয়েছিল। 
আর একবার দেখেছিলাম তাঁর
বাবার মৃতদেহ দেখার জন্য ছোট ভাই
শেখ নাসেরের বাড়িতে যাবার পথে। 
যখন আস্তে আস্তে বুঝতে শিখি
ভাইবোনদের সাথে স্কুলে যাই।
খুলনার রেল কলোনিতে আমি
বড় হতে থাকি ক্রমে ক্রমে।

পনের আগষ্ট উনিশ’শ পঁচাত্তর
প্রতিদিনের মত একইভাবে স্কুলে যেয়ে
শুনি ক্লাস হবে না আজ, সেই মহান নেতাকে
সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে;
গোটা জাতি স্তব্ধ শোকে।

আমাদের সদর ঘরের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি ছিল,
লোকে জানালো ওটা নামিয়ে ফেলতে
না হলে অসুবিধা হবে আমাদের।
ছবিটি নামিয়ে ট্রাঙ্কের মাঝে রাখা হলো,
বহুদিন সেটা জামা কাপড়ের নিচে চাপা ছিল।

এরই মাঝে শাসক পরিবর্তন হয়েছে অনেক
নব্বয়ের দশকে আমি পরিপূর্ণ যুবক,
এই বিশাল ব্যক্তিত্বকে নিয়ে অনেক কিছুই জেনেছি,
আমার ভেতরের সেই মহান নেতার ছবি এখনও অক্ষত।
হৃদয়ের মাঝে বিশাল বৃক্ষের মত
ডালপালা ছড়িয়ে বড় হয়।
আমাকে আশ্রয় দেয়, ছায়া দেয়; পথ চলার সাহস যোগায়।
এখন হয়েছে আলাদা ঘর, আলাদা পরিবেশ
গৃহের মাঝে সেই ছবিটি রাখতে
কেউ প্রতিহত করতে পারে না আমায়,
তবুও সেটা গৃহে রাখিনা, রাখার প্রয়োজনও নেই
ছবিটি আমার অন্তরের মাঝে গেঁথে আছে যে।।
কবি- কামরান চৌধুরী

বঙ্গবন্ধু তুমি


বাংলার ধূলি বাংলার জল
হবেনা বিলীন কভু অস্তাচল।

স্বাধীনতা সূর্য বিজয় নিশানে
বাঙালির গর্ব শতত মননে,  
চিরঞ্জীব তুমি মানব হৃদয়ে
হিমালয় উঁচু গৌরবে অভয়ে।

বঙ্গবন্ধু আজো, বাঙালি ভোলেনি
বজ্রকণ্ঠ কেউ দাবাতে পারেনি।
সৌর্য বীর্যে তুমি শিরায় শিরায়
শপথের পথে সালাম জানাই।

স্বর্ণাক্ষরে লেখা তোমার কথন
বিকশিত আজ সৌরভে কানন।।
কবি- কামরান চৌধুরী

শ্যামলী, ঢাকা ।।

বসন্ত বাতাস


বসন্তের ছোঁয়া আজ খুঁজতে
হয় বইয়ের পাতায়
পাইনা খুঁজে তাকে আকাশে, 
বাতাসে ,হাওয়ায়, হাওয়ায়
দূর দূরান্ত শুধুই পাবে অট্টালিকা
নেই কোন ভ্রমরের গুঞ্জন
সেই ফাগুন খুঁজে বেড়ায়
আজ একলা মন
এই কংক্রিটের শহরে
কৃষ্ণচূড়ার লাল পাহাড়ি
সুপ্ত বাসনায় তাকে আজ
খুঁজে ফিরি
সেই ফাগুনের দেখা পেলে গাইবো আবার
ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে
কিন্তু সেযে এখন ঠাঁই পেয়েছে
শুধুই মনের কোণে
নেই কোন আজ পলাশ শিমুল স্পর্শে
আগুন রাঙা আকাশ
ভেসে যায় আজ ফেরারি মন
শুধুই ভাবনার অবকাশ
বড় অচেনা লাগে আজ এই শহর
ভেজা চোখ শুধুই গোনে প্রহর
প্রথম বসন্ত রাঙিয়ে ছিল
মনের আঙিনা
কংক্রিটের দেওয়ালে বসন্তকে
কোকিল খুঁজে পায়না
পুড়ছে আজ পিচ গলা রাস্তা গুলো
হারিয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়ার ছাওয়ায় ঘেরা পথের বাঁক গুলো
ধুলো মাখা মন নিয়ে ঘুরে বেড়াই
ইঁটের পাঁজরে
পলাশের গুচ্ছ কুড়াবো বলে
নরম ঘাসের পরে
খুঁজে বেড়ায় বাউলের মন
রাঙা মেঠো পথ
মাদলের তালে কোকিল কণ্ঠে
বেজে ওঠেনা বসন্তের গথ ।।

কবি- বিনিতা দত্ত

নদী

নদী তুই যাচ্ছিস রে শুধু বয়ে
কোন সে সুদূর গাঁয়ে,
মনটা যে দোলে স্রোতের তালে
কানেকানে একটু বলে যা।
কোন পাহাড়ে জন্মরে তোর
কোথায় আছে আদিবাস
পারিস না কেন বলতে তুই
কোথায় যে বয়ে যাস।
জানলি না তুই ঝর্ণা তোকে
কত যে বেসেছিল ভালো,
থামলি না তুই তাহার ডাকে
সময় যে শুধু বয়ে গেল।
কোথায় পেলি বলতে পারিস
এমনি নিষ্ঠুর ধারা
ঝর্ণা দিল হৃদয় ঢেলে
হইলে যে তুই বাঁধন হারা।
ভালো রে তুই ভীষণ ভালো
পিছু ফিরে দেখিস না
কে যে কখন পিছু টানে
তুই তো তোর গায়ে মাখিস না।
এখন বুঝেছি হতাম যদি
নদী রে তোরই মত
ছুটে যেতাম নিরবধি
শুধু সামনে অবিরত।
কবি- মামুনূর রশিদ