ফটোসেশান - শামসুল হুদা লিটন

শামসুল হুদা লিটন

 সোনার দেশের 
সোনার ছেলে
 সোনার কথা বলে, 
 ক্রান্তিকালে ত্রাণের নামে
 দানের ছবি তোলে।

 ইরি ধানের সিজন এলে
 চাষীর লাগি দরদ পড়ে 
 ফসল কাটার নামে সোনা
 ফটোসেশান করে। 

 মাছের তেলে মাছ ভাঁজে
 ফাঁকা মাঠে ফাঁকা বুলি, 
 সেবার নামে সেবা নয় 
 যেনো খেলা রং তুলি। 

কাপাসিয়া - ২৮/৪/২০২০

নোঙর - কামরান চৌধুরী

কামরান চৌধুরী

প্রতিটি সুস্থতা যেন নতুন জীবন দেয়
জেগে জেগে উঠি যেন নবতেজোদীপ্ত হয়ে।
ফসলের মাঠ ভাসে যেন সবুজ বন্যায়
কৃষাণের চোখে চোখে সোনালী স্বপ্ন ফোয়ারা।
প্রতিটি সুস্থতা যেন জাগিয়ে তোলে মনন
নবত্বের ভাবনায় নব দিশায় সাজায়।
যা কিছু ছোঁয়া হয়নি, যে স্বপ্ন দেখা হয়নি
নরম স্পর্শে জাগেনি শিশিরাবৃত অঞ্চল।

লাজে রাঙা ওষ্ঠ মাঝে চুম্বন আঁকা হয়নি।
প্রতিক্ষিত স্বপ্নগুলো আজও হয়নি বোনা।
কচি হাত ধরে ধরে হাঁটিনি চেনা শহর
নতুন প্রাণে দেখবো স্বপ্নের সেই শহর।

ভাস্কোদাগামা কলম্বাস মেগানলেস হয়ে
আবিস্কারের নেশায় উন্মত্ত এক নাবিক।
নতুন পথেই চলা নতুন সারথি নিয়ে
অনন্ত পথিক হয়ে, অনন্তের সাথে ছোটা।।

বারংবার মৃত্যু থেকে বেঁচে ফিরতে চাই
ডুবে যাবার আগে ঝাড়া মেরে উঠতে চাই।
সুন্দর এই পৃথিবী, চাইনা যেতে কোথাও
মিলেমিশে একাকার চারদিকে স্বপ্নাধার।

সকালের মিঠারোদ, কলাপাতা ঘেরা ছায়া
কচি কচি লাউডগা, মাঠভরা সর্ষে হাসি
ঘাসফরিং, চড়ুউ, মাছরাঙা, ঘুঘু, টিয়ে
কাঠবিড়ালি প্রজাপতির নিত্য সুর নাচ।

রংধনু সাতরং রাঙিয়ে দেয় জীবন
কাননে ফুলের বান ভ্রমরা গুঞ্জন তোলে
শিশুর মুখে প্রভুর আহা কি মধুর হাসি
এই বন্দরে নোঙর আজীবন ভালোবাসি।।


২৮ এপ্রিল, ২০২০।। শ্যামলী, ঢাকা।

রঙিন দুনিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের করণীয়

হাতের মোবাইল দূরের মানুষটাকে কাছে নিয়ে এসেছে কিন্তু কাছের মানুষটাকে কাছে রেখেছে তো?? ফেসবুকের কল্যাণে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছি কিন্তু পরিবারের সদস্যদের ব্লক লিস্টে রেখেছি কি?? সব কিছুর ই ভালো মন্দ থাকে। ভালো মন্দের বেড়াজালে আটকে গিয়েও ভালো টাকেই আঁকড়ে ধরে বাঁচার মত জ্ঞান অর্জন করছি তো?

সোশ্যাল মিডিয়া এখন আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। খুব উন্নত হয়েছি আমরা। সোশ্যাল মিডিয়া বলতেই আমরা অনেকে ফেসবুক বুঝি। স্কুলের গণ্ডি পাড় করতে না পারা মানুষটাও আজ ফেসবুক ব্যবহার করা শিখে ফেলেছে। ফেসবুকের মধ্যে ইন্টারনেট নাকি ইন্টারনেটের মধ্যে ফেসবুক তা নিয়ে সামান্য ধারণা না থাকা মানুষটাও আজ ফেসবুক ব্যবহার করছে।
আমাদের এই ফেসবুক ব্যবহার প্রশংসনীয় অবশ্যই। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা ফেসবুকের সঠিক ব্যবহার কর্রি কি না? যেহেতু ভালো খারাপে মিশ্রিত আমাদের এই সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়া। তাই ন্যূনতম জ্ঞান নিয়ে আমাদের এই জগতে আশা উচিত। কারন এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ আলোর দেখা যেমন পেয়েছে তেমনি অন্ধকারেও ধাবিত হয়েছে।

আসুন দেখে নেই আমরা বেশিরভাগ মানুষ  কি করি সোশ্যাল মিডিয়াতে

নতুন বন্ধু তৈরী বা পুরাতন বন্ধু খুঁজে বের করি
সোশ্যাল মিডিয়ার মূল উদ্দেশ্য যেহেতু মানুষের সাথে যুক্ত হয়ে একটা কমিউনিটি তৈরি করা। তাই সর্বপ্রথম ই আমরা পুরাতন বন্ধুদের বা পরিচিতদের খুঁজে বের করি এবং নতুন নতুন বন্ধু তৈরি করি। বন্ধুতালিকায় বেশী বেশী বন্ধু যোগ করার পেছনে বেশিরভাগের ই উদ্দেশ্য থাকে নিজের পোস্টে বেশী বেশী লাইক, কমেন্ট পাওয়া।
তাছাড়া একটা জিনিষ এখন খুব লক্ষ্য করা যায় যে বেশিরভাগ তরুন-তরুনীরা তাদের জীবন সঙ্গী খোঁজার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুকে তৈরি হওয়া হাজারো সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার খবর কোথাও না কোথাও প্রতিদিন  শুনা যায়। ধোঁকা খেয়েও মানুষ বিশ্বাস করতে ভালোবাসে। তাই আবার ধোঁকা খায়। তবু চিন্তার পরিবর্তন হয় না অনেকেরই।
নিজের প্রতিদিনের কার্যকলাপ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেই
সারাদিন কি কাজ করেছি, কোথায় গিয়েছি ,কার সাথে দেখা হয়েছে, কি খেয়েছি সবকিছু সাথে সাথেই জানাতে পারি আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে। এগুলোর ভালো দিক যেমন আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে।
কোথাও ঘুরতে গিয়ে সেই জায়গার ছবি দিলে যারা কখনো সেখানে যায় নাই তারা জায়গাটা দেখতে কেমন সে সম্পর্কে ধারণা পায়। যেটা একটা ভালো দিক। কিন্তু আপনি যদি আপনার আবেগ এবং দুর্বলতা সোশ্যাল মিডিয়াতে বলেন তাহলে অনেকেই সুযোগ পাবে আপনার ক্ষতি করার।
বিনোদন পাওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা
মজা নেওয়ার জন্য বা পাওয়ার জন্য  সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা অনেক কিছু দিয়ে থাকি বা বলে থাকি। মানুষ পোস্টে লাইক দিলে মন ভালো লাগে না দিলে কষ্ট লাগে। চ্যাট করে পুরাতন বন্ধু বা পরিচিতদের খবর নেয়ার পাশাপাশি নতুন বন্ধুদের সাথেও মেসেজ করে সময় কাটানো যায়। কিন্তু অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না তা ভুলে গেলেই যত সমস্যা হয়। মেসেজ করা কখন যে নেশায় পরিণত হয় তা আমরা বুঝতেই পারি না। ফলে দিনের পর দিন অযথা ভুল মানুষের পেছনে বা সাময়িক আনন্দে সময় অপচয় করি।
এগুলা ছাড়াও আরো অনেক কিছু আমরা করতে পারি সোশ্যাল মিডিয়াতে। এবার সেগুলো একটু দেখে আসি। আর সোশ্যাল মিডিয়া বলতে শুধু ফেসবুক না। ফেসবুক ছাড়াও আছে টুইটার, লিঙ্কডিন, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি।

সোশ্যাল মিডিয়ার আলো

কমিউনিটি গঠন
নিজের কর্মক্ষেত্র বা একই রকম লক্ষ্য নিয়ে যারা কাজ করে তাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কমিউনিটি তৈরি করা যায়। ফলে একই ধরণের কাজে আগ্রহ থাকায় নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে একে অপর থেকে অনেক কিছু শেখা বা জানা যায়। অন্যদের থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায় যা আপনার কাজে আরো বেশী আগ্রহ তৈরি করবে।
অভিজ্ঞতা তুলে ধরা
আপনার কাজের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরলে তাদের সে কাজ সম্পর্কে অনেকটা ধারণা হয় ফলে তারাও সে কাজটা করতে আগ্রহী হয়। কাজটি করতে কি ধরনের অসুবিধা হতে পারে বা করলে কি সুবিধা হবে তাও বুঝতে পারবে। আর আপনি যে সে বিষয়ে অভিজ্ঞ তা অন্যরা জানতে পারলে আপনি পেশাগত ভাবে লাভবান হতে পারেন।
নিজের কাজকে সবার কাছে পোঁছে দেয়া
মনে করেন আপনি কিছু একটা তৈরি করতে পারেন তা ভিডিও করে বা তৈরির প্রক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। যার মাধ্যমে আপনার নিজের জ্ঞানও বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যরাও শিখতে পারবে।
রক্ত যোগাড় করা বা রক্ত দিয়ে সাহায্য করা
কারো রক্তের প্রয়োজন হলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই রক্ত যোগাড় করা সম্ভব। যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষই তিন মাস পর পর রক্ত দিতে পারে। তাই আমরা নিজের ইচ্ছায়ও রুগীর খোঁজ করে রক্ত দিতে পারি এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
অর্থ উপার্জন করা
এখন অনলাইন ভিত্তিক অনেক ব্যবসাই গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ এখন বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দেয়ার কাজও করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার হিসেবে এখন অনেকেই তাদের পেশা বেছে নিচ্ছে এবং অনেক বৈদেশিক টাকাও উপার্জন করছে।
বই পড়তে উৎসাহিত করা
বই প্রত্যেকের জীবনেই অনেক গুরত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই আমরা যারা বই পড়ি, তারা নিজের পড়া বইটির রিভিউ দিয়ে অন্যকে উৎসাহিত করতে পারি। বিভিন্ন বই সম্পর্কে বন্ধুদের জানাতে পারি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই।
সোশ্যাল মিডিয়াকে সঠিক ব্যবহার করলে তা যে আমাদের আলোর পথে কতদূর নিয়ে যেতে পারে তা আসলে সবাই ই জানে। কত কিছু যে শেখা যায় এই সোশ্যাল মিডিয়াতে তাও সবার অবগত। এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক কমিউনিটি গঠন করা। আর সঠিক ভাবে নিজের সময়কে ব্যয় করা।
লেখায় যদি কোন ভুল থেকে থাকে বা যদি কোন বাক্য বুঝতে সমস্যা হয় তবে মন্তব্য করে জানাবেন। আপনাদের কাছে যদি আরো কার্যকরী কোন প্রক্রিয়া থাকে যা দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় সঠিক ভাবে কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করেন তাহলে দয়া করে মন্তব্য করে জানাবেন। আসুন সবাই এক সাথে সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যেকের নিজ নিজ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাই এবং একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি।

লেখক প্রিয়াঙ্কা চন্দ,

দর্শন বিহনে - কামরান চৌধুরী

 কামরান চৌধুরী

কতদিন রাখিনি চোখ ঐ মিষ্টি দুটি চোখে
কতদিন রাখিনি হাত তোমার প্রিয় হাতে|
অবাক চাহনি হারিয়ে যায় সে পাখা মেলে
ফিরে পাব প্রাণ কফির আড্ডায় সুন্দর বিকেলে।
অব্যক্ত কথারা গোলাপ কুঁড়িতে প্রস্ফুটিত
ছুটে চলা চঞ্চল কিশোরী হরিনীর ন্যায়
ছটফট করি যেন প্রিয় সঙ্গ কামনায়
আর তুমি অবহেলা করে সরে সরে যাও।
রংধনু ছুঁতে, কৃষ্ণচূড়ায় রঙ মাখাতে
হাসিতে লাগানো বিদ্যুৎ চমক মেঘে ঢাকে।
বৈশাখী ঝড় শেষে আসবে শীতল বাতাস
অধরা তোমাকে কাছে ধরার পাবে প্রয়াস
চেনা অচেনা পথের তৃণ স্বাগত জানাবে
বিবর্ণ মলিন শহরটা প্রাণ খুঁজে পাবে।
আর কতদিন অপেক্ষায় প্রহর গুণবো
আর কত পূর্ণিমা অমাবস্যা পেরোতে হবে
কতটা ঋতু পেরিয়ে যাবে দর্শন বিহনে
আতঙ্কে আতঙ্কে কাটবে আমাদের জীবন।
জং ধরা শরীরের গাঁটে গাঁটে ধরে ব্যথা
ঘুচে যাবে কবে সামাজিক দূরত্বের বেড়া??
১৭ এপ্রিল, ২০২০ ।। শ্যামলী, ঢাকা

থাকবেনা মানা - মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)


বৈশাখী ঝড়ে উড়ে যাবে যন্তণা সব,
শেষ হবে যন্ত্রণা বিদগ্ধ মৃত্যুর তান্ডব।
নতুন বছরে আশার দোলায় বাঁধি বুক,
দেখা দেবে বুক ভরা নতুন আলোয় সুখ।
জোনাকিরা জ্বলে মিটিমিটি করবে খেলা
বৈশাখী আকাশে ভাসবে মেঘেদের ভেলা।
পূর্ণিমা চাঁদ রাতভর আলো আঁধারিয়া
মুখরিত ঘাটে ঘাটে পাড়ি দেবে খেয়া।
ধুয়ে যাক মুছে যাক যতো জরাজীর্ণতা
পৃথিবীতে আসবে শান্তি সুখের বারতা।
সবুজ পৃথিবীতে আবার মেলে দেবো ডানা
সমুদ্র স্নানে ভেসে যেতে থাকবে না মানা।
ঢাকা,১৪/০৪/২০২০ইং।

বর্ষবরণ - কামরান চৌধুরী


কামরান চৌধুরী

অদৃশ্য শত্রুরা ঘুরছে চৌদিকে
নতুন বর্ষ যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে।
বিবর্ণ মলিন ভয়ার্ত ধরণী
ভুলিনি তবুও বঙ্গাব্দ বরণী।
ভয়কে আমরা করবো যে জয়
বাঙালি নিয়েছে শপথ অভয়।
গৃহ মাঝে গড়ি আনন্দ ভূবন
মনে মনে সেথা অনিন্দ্য কানন।
মৃত্যু-ক্ষুধা-মন্দা, হৃদয় সুগন্ধা
উৎসব মুখর সকাল সন্ধ্যা।
নিয়েছি শপথ আনবো সুদিন
মায়ের, জাতির, বন্ধনের ঋণ।
আমন্ত্রণটা ভাই রইলো তোলা
শত্রু গেলে এসো, দুয়ারটা খোলা।
মিষ্টি পিঠা পুলি পায়েষ সেমাই
মিলবো আবার আড্ডায় সবাই।
দুরত্ব ঘুচুক তোমার আমার
অসুর নিধনে মিলবো এবার।
নব আলোতে অন্ধকার কাটুক
মঙ্গল সুরেতে ভূবন দুলুক।
১ বৈশাখ, ১৪২৭ ।। ১৪ এপ্রিল ২০২০ শ্যামলী, ঢাকা।

নববর্ষে পাই যেন এক নতুন পৃথিবী - বিনিতা দত্ত

 
বিবর্ণ রঙে এসেছো তুমি হে বৈশাখ
ঘরে ঘরে আজ নেই কোন
নতুনের আহ্বান
শুধু বেঁচে থাকার চেষ্টা মৃত্যুর
মাঝে প্রলয়ের ডাক।
মনের আশা দেখবে আবার নতুন
সকাল ভৈরবী সুরে
শুদ্ধ হয়ে মেতে উঠুক পৃথিবী
আবার নানা রঙের খেলায়
সেদিন সকলে মিলে গাইবো
এসো হে বৈশাখ ঘরে ঘরে।
দূষিত আজ বায়ু,জল ,প্রকৃতি
ও মানুষের মন
তাইতো আজ গোটা বিশ্ব কে
করেছে গ্রাস মরণ রোগ
নতুন বছরের প্রার্থনা দ্রুত
আরোগ্য পাক এই ভুবন।
চারিদিকে শুধু মৃত্যু মিছিল
আর ক্ষুধার্তদের হাহাকার
বিজ্ঞান ও গেছে হেরে আজ
এই ভয়ানক মৃত্যুর কাছে
এই বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে
ফিরিয়ে দিক সুদিন সবার।
গৃহবন্দী আজ সকলে মুক্তির
অপেক্ষায় কাটছে দিন
প্রকৃতির সাথে বন্ধ হোক
অবিচার ও অবহেলা
দূষণ মুক্ত এক নতুন পৃথিবী
দেখবো আবার সেইদিন ।।

করোনা ভেগে যাও - কামরান চৌধুরী

কামরান চৌধুরী

করোনা.. করোনা.. করোনা...
ধ্যাততেরি ছাই, কেন তুমি ছাড়োনা?
টেলিভিশন, পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়ায়
দিনরাত ঘ্যানঘ্যানানি ভাল্লাগে না।
এটা কর, ওটা কর, বউয়ের প্যানপ্যানানি ভাল্লাগে না।
ছেলেপুলেদের কান্নাকাটি... ‘আমার সাথে খেলোনা,
কথা বলো, গল্পো বলো, ছবি আঁকোনা’...
আর কতক্ষণ সহ্য করা, বলতে পারো?
মনে হয়, ঘরের তালা খুলে, ছুটে যাই চলে।
রাস্তায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করি...
করোনা, এবারটা আমাদের ছাড়োনা।
বিশ্বটাকে ভয় দেখিয়ে, থামিয়ে দিলে গতির চাকা,
প্রেম পিরিতি ভালোবাসা, যেন এখন সিঁকেয় রাখা।
নিত্য কাজের তালিকাটা লন্ডভন্ড হয়ে গেল
দেহ-মনে বেঁধে বাসা অলসতা-বিষন্নতা এনে দিল।
আর কতকাল ঘরের মাঝে, চুপটি করে বসে রবো?
দোহায় লাগে এবার তুমি, আমাদেরকে মেরো না।
আল্লাহ খোদা ডাকছি কত
কেলিয়ে দাঁত হাসছো তত।
করোনা ও করোনা, দোহায় লাগে
এবার তুমি আমাদেরকে মেরো না।
বুদ্ধিটা যে ভোতা হলো, ঘরকন্না সঙ্গী হলো,
কাজ.. সঞ্চয়.. সেটাও গেলো..
জড়তা মূঢ়তা দেহমাঝে বেঁধে নিলো
এভাবেই কতদিন কাটবে বলো?
সৃষ্টির সেরা আমি। আমায় রুখতে চাও?
স্রষ্টা সহায় আছে, পারোতো ক্ষমা চেয়ে নাও।
কালবৈশাখী ঝড়ের মতো উঠবো নাকি জেগে?
দেখি আমার থেকে বাঁচতে তুমি, যেতে পারো কিনা ভেগে।।
১২ এপ্রিল, ২০২০২ ।। শ্যামলী, ঢাকা।।

আপনা মাংসে হরিণা বৈরি

মেঘে মেঘে বেলা কম হয়নি, অষ্টপ্রহর বদলের প্রবাহও থেমে নেই, চন্দ্র-সূর্যের ওঠা নামাও থেমে থাকেনি ক্ষণকালের জন্যও, বাতাসে শিসার পরিমাণ যতোই বাড়ুক, থেমে থাকছে না, ঝড় তুফানেও নরেন মুদির দোকান খোলা বন্ধ থাকছে না, আমাদের ছোট্ট গলির বখাটে ছেলেদের বুড়বুড় করে সিগারেট ফুঁকা বন্ধ হচ্ছেনা, পাড়ার সবচেয়ে ভদ্র , শিক্ষানুরাগী তাপসীর লেখাপড়া থেমে নেই বখাটেদের শত বাজে অশ্রাব্য কথোপকথনেও । কিচ্ছু থেমে নেই, কিচ্ছু না ।

রোদসী, তোর বয়স আর কতো ? চার কিংবা পাঁচ হবে ? আমি তোকে এইসব চলমান স্থানে যেতে বারণ করি। তোকে খুব ভয়ে স্কুলে নিয়ে যাই, নিয়ে আসি । বাইরে যেতে না দিলেই নানান প্রশ্নের বান ছুঁড়ে দিস প্রতিদিন। আমি কি করে বোঝাবো তোকে ? এইসব শব্দগুলো বোঝার কি কোন বয়স তোর হয়েছে ? যখন ষাট বছরের ভ্যাদা বুড়োভাম লালচে দাঁত আর যে চোখে তোকে বলেছিল- দাদুভাই, কোলে আসো, চকোলেট দিব । তুই বিঝিসনি মামণি, আমি তার চোখের দৃষ্টিতে প্রবৃত্তির এক নোংরা ছাপ দেখেছিলাম। নপুংশকতার প্রবৃত্তি, তুই বুঝবি না। আমি কপাল চাপড়াই-কেনো প্রশ্ন করিস ?

তোকে বোঝাবার ভাষা আমার নেই, সেই ভাষা তোকে বোঝাবার নয়। জানিস না, আজকাল ও-পাড়ার চাপা, বেলি, রোজিরা বাগানের বাইরে গন্ধ বিলোবার আগেই গন্ধ কু-প্রবৃত্তির মনমানসিকতার লোকেদের নাসারন্ধ্রে পৌঁছায়। অনেকটা আপনা মাংসে হরিণা বৈরি- এমনটাই কিন্তু তা তাপসী এই আক্ষেপটা করে, আমাকে বলে, আমি বুঝি, নিজের বৈরিতা নিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। সেই কান্না বোঝার সময় তোর হয়নি।
আমার মানসিকতাও বোধ হয় পশুস্তরে পৌঁছে গিয়েছে। 

আমার কাজের ব্যাস্ততায় তোকে তোর বাবার কাছে রেখে কিছুক্ষণের জন্য আড়াল হলেই দু-দন্ড কর্ম সেরেই বিচলিত স্বরে হাঁক ছেড়ে বলি- এই ওকে ছেড়ে দাও, আমার কাছে আসুক, কাজের ক্ষতি হবে না, আদর করারও সময় পাই না। এ আমার হীনমন্যতা হলেও আমি তা মোটেও কাটাতে পারবো না। যাই হোক, তবুও বলি- আমার কাছে পাঠাও না ! রোদসী ! মা ! 
-
মোঃ কামরুজ্জামান বাবু

নাশপাতি

নাদেরের মা যথারীতি আজও কাজে যাবার পথেই চার বছরের ছেলে শমু তার পথ আটকায়।আদতে নাদেরর কখোনও কোন চাওয়া বা বায়না থাকেনা। যত্তোসব আজব, জটিল বায়না মায়ের কাছে শমুর।নাদেরের মা আলতো করে ছেলেকে জোর করে সরিয়ে নাদেরের চোখে চোখ রেখে বলে যায়,
যেনো সে তার ভাইটার খেয়াল রাখে।নাদেরের মায়ের নাম জোবেদা।সে ঘরের বাইরে যেতে যেতে আঁচলে চোখ মুছে।

জোবেদাদের ইদের আমেজ শুরু হয় রাতে।বাসি,পচা, উচ্ছিষ্ট সেমাই, পোলাও কোর্মা দিয়ে। সে এভাবেই চলে আসছে বেশ অনেকদিন।কিন্তু জোবেদা একটা ব্যাপার খেয়াল করেছে যে নাদের কখনোই এসব খাবার ছুয়েও দেখেনি, কোনদিনও না। জোবেদা আশ্চর্য হয়,তার ছেলে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকলেও ওসব খাবারের দিকে তাকিয়েও দেখে না।ভালো একটা ব্যাপার হলো- সে খাবারের জন্য কাদেও না।

সোহেল রহমান খানের বাসায় কাজ করছে সেই ষোলো বছর বয়স থেকে। সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত লোক।জোবেদা মোটেও তার সাহেবকে ভয় পায় না,ঘেন্না করে। যদিও তার স্ত্রীর সাথে খুব ভাব জোবেদার।সোহেল সাহেবের স্ত্রীর কড়া হুকুম - একটা কাজেও যেনো কোন সমস্যা না হয়। অবশ্য সোহেল সাহেবের স্ত্রী শর্মিলার কথায় জোবেদা জীর্ণ মুখে সায় দেয়।

শর্মিলা বের হয়েছে এবং কোথায় গিয়েছে -তা জোবেদা জানে।পলাশের সাথে বিছানায় যাবাব আগেও বহুবার বিছানা ঠিক করে দিয়েছে। আজ যে গিয়েছে,তা জোবেদা জানে সহজে ফিরবে না।ইদ বলে কথা!

সোহেল সাহেব পেছন থেকে জোবেদার কোমর ধরতেই রাক্ষুসে চোখ নিয়ে তাকায়।খুন্তি টা নিয়ে শাসিয়ে চাপা গলায় বলে,জামাই বউ দুইজনে একইরকম অসুব্ব্যা। সোহেল সাহেব হায়েনার মতো হাসে।জাবেদা বলতেই থাকে। শেষে মুখে কাপড় গুজে চোখ ফিরিয়ে বলে, " আপনের পোলা যেইটা আমারে পেট বানাইয়া দিছেন, আপনের বউ দেইখাও না দেখার ভান কইর‍্যা ছিলো- সেই নাদের বড় হইছে। আপনে সরেন,আপনেরে দেহলে আমার ঘিন্না লাগে "।
- মোঃ কামরুজ্জামান বাবু

অতঃপর একটাই চূড়ান্ত আক্ষেপ আমার

 
মোঃ কামরুজ্জামান বাবু 
একটাই আক্ষেপ আমার  - কারো ভাবনা হতে পারিনি ;
একটাই প্রাপ্তি আমার      - কেউ ভাবনা হতে পেরেছে ।
একটাই কষ্ট আমার        - কারও ভালো বন্ধু হতে পারিনি;
একটাই সুখ আমার        - কখনো কারো নিঃসঙ্গতায় ঠাই পেয়েছি।
একটাই অবসাদ আমার - স্বর্ণালী সুযোগ হেলায় ছুঁড়েছি ।
একটাই শ্রান্তি আমার     - তবুও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছি ।
একটাই বিষাদ আমার   - তাকে ধরে রাখতে পারিনি ;
                                 ছোট ছোট শব্দেই তাকে বেলা-অবেলা
                                 হেলা-ফেলা , আগলে রাখতে ছুঁইয়ে দিতাম
                                 বর্ষার সিক্ত কদমের সাদা হুল পাঁপড়ি ,
                                 অতঃপর একটা পলক ওর দীঘিজল চোখে -
                                 বলেছিলাম,ওকে সমুদ্রজল দেখাবো,পাহাড়,
                                 ঘাসফুল,কাশফুল , ঘাসফড়িঙ আর এই-সেই ,                               
 পৃথিবীর সব দেখাবো ,সব-ই । 

                                  ও খিলখিল হেসে বলেছিল ,
                                  "এক রত্তিও মিথ্যে নয় সোনা আমার , 
                                   আমি সব-ই দেখেছি।

একটাই প্রশ্ন আমার     - ও কী তবে সান্ত্বনা দিয়েছিলো ?
                          ও কী অনেক আগেই টের পেয়ে গিয়েছিল ওর মৃত্যু ?
                         ওর রেখে যাওয়া চিঠি,"এই,আমার হাতের এলোমেলো
                    লিখা পড়তে গিয়ে বকো না।যা বলছি,মন দিয়ে শুনে নাও
                   শব্দের শব্দে।আমি তোমার চোখে যে অপলক চেয়ে চেয়ে
                        সমুদ্র দেখেছি , আমি ঢেউয়ে ভেসেছি সত্যি ,জানো ?
                      ঘাসফুল , কাশফুল , বুনোফুল , আকাশ -আরো কতো !!
                       তোমাকে ভালবাসতে বাসতে আর এতকিছু একসাথে
                     দেখে স্রষ্টার সৃষ্টিকে তুচ্ছ করার সাহস আমার হয়নি যে !

একটাই দোষ আমার    - তাকে ভালবাসতে পারিনি । বুঝিনি ।
একটাই স্বীকারোক্তি আমার-আমি আমার সুখের সুখকে মূল্য দেই নি।
অতঃপর একটাই চূড়ান্ত আক্ষেপ আমার - এভাবেই প্রাপ্তি , কষ্ট , সুখ ,
                                    অবসাদ , শ্রান্তি , বিষাদ , প্রশ্ন , দোষ আর
                                     স্বীকারোক্তিতেই আবদ্ধ থেকে যেতে হবেই ।
                                    আমার তো পৃথিবীই মৃত ।
 
 
কবি- মোঃ কামরুজ্জামান বাবু  




মৃত্যুপুরী - মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)

জীবনের সাথে ঘিরে রয়
এখন মৃত্যুর ছায়া।
বিষাক্ত বাতাসের ছোবলে
আসে মৃত্যুর ছোঁয়া।
রাতের আকাশে নেই
জ্যোছনা আলোর ভেলা,
নিশুতি রাতে জোনাকিরা
করেনা মিটিমিটি খেলা।
নিশি পাওয়া কুকুরের
ভয়ার্ত ডাকে ডাকে
রাতের নিরবতা ভাঙ্গে
মৃত স্বজনের শোকে।
দেখেছো কি কেমন মৃত্যু
পৃথিবী কি মৃত্যুপুরী?
মৃত্যুর মিছিলে মিছিলে
কত শত লাশের সারি।
আধাঁর রাতে ডাকে পেঁচা,
ছাপিয়ে দুই ডানা,
অশনিসংকেত বলে দেয়
কখন মৃত্যু দেয় হানা!!
মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)
 

ধৈর্য - মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)

                        মোঃ ইবাদুল হাসান (ইবু)
 
আশার আলো জ্বলবে বলে
তাকিয়ে থাকি রোজ,
মরণ ব্যধি যাবে সরে
থাকবে নাকো খোঁজ। 

বিশ্বজুড়ে কেন যে আজ
এমন আহাজারি, 
মরণ ব্যাধি প্রতিরোধে
সর্তকতা খুব জরুরী। 

নিজের ঘরে থাক সবাই 
একটু ধৈর্য ধরে, 
দেখবে তুমি মরণ ব্যধি
পালিয়ে যাবে দুরে।

দেশের মানুষ সবাই মিলে
মানলে নিয়ম ঠিক মতো,
সংক্রামিত হবেনা কেউ
হউক না ব্যমো কঠিন যতো।

সবাই মিলে একটু শুধু 
ধরতে হবে ধৈর্য, 
আসবে আবার সোনালী দিন
উঠবে নতুন সূর্য।